কিশোরগঞ্জে নরসুন্দা রিভারভিউ ক্লিনিকের এনেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ সাদেক হোসেন শাকিলকে প্রাণনাশের হুমকি ও লাঞ্চিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নরসুন্দা রিভারভিউ কিনিকে এনেস্থেসিয়া কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ সাদেক হোসেন শাকিল এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি জানান গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে জরুরী সিজার অপারেশনের এনেস্থেসিয়ার জন্য কিনিকে যাই পরে বিকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল ডুবাইল রোড-এ আমার বাসায় যাওয়ার সময় একই এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মানিক (৪৬) সহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন গাড়ীর গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে গাড়ী থেকে টেনে-হেছরে বের করে ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং আমাকে গালাগালি করে বলে যে, তর বাসার মালিক করোনায় আক্রান্ত তুই বাসা থেকে বের হলি কিভাবে। তুই বাসায় থাকবি তুই বাসায় না থাকলে তোকে এবং তোর গাড়ী ভাংচুর করে তোকে পঙ্গু করে রাখবো। তারপর আমি বলি আমি নরসুন্দা ক্লিনিকে ডাক্তার হিসেবে নিয়োজিত আছি এই মহুর্তে রোগীদের সেবা করা দরকার কিন্তু তাঁরা কোন কথা শুনেনি আমাকে মারপিট করিয়া হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে উক্ত বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিএম এর সেক্রেটারী ডাঃ এম এ বাদলকে বিষয়টি অবহিত করি।
তিনি আরো বলেন, আমার বাসার মালিক মুক্তা সুলতানা তিনি কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক থাকা অবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় হোম কোয়ারিন্টাইনে আছেন। উনি উপর তলায় এবং আমি নিচ তলায় বসবাস করি।
এমতাবস্থায় আমার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। করোনা প্রাক্কালে জরুরি সেবা দিতে গিয়ে যদি এমন পরিস্থিতির স্বীকার হতে হয় তাহলে আমাদের জীবনের মূল্য কোথায়? আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। এসময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় ২৯ এপ্রিল ২০২০ তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং- ৩৩ তাং- ২৯/০৪/২০২০ইং ধারা: ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৫০৬ পেনাল কোড রুজু করা হয়।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক (বিপিএম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে একটি মামলা এফআইআর করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওনি আরো জানান চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা দেখবো।