এবার প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা দান করল শারীরিক প্রতিবন্ধী রাহুল বিশ্বাস। সে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের একটি দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বাবাহীন সংসারে মা ও দুই বোন ও এক ভাই নিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে।
আজ (৪ এপ্রিল) সোমবার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের বাস ভবনে জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর হাতে এ অর্থ তুলে দেয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মামুন আল মাসুদ খান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার, ডা. মাসুমা আক্তার। এছাড়াও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবন্ধি রাহুল বিশ্বাস একজন ফার্মেসী ব্যবসায়ী। সে ছাত্র জীবনে বুদ্ধী প্রতিবন্ধী স্কুলের ছাত্র ছিল। করোনাভাইরাস বাংলাদেশে মহামারী আকার ধারণ করার পর থেকেই মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করে। ফাউন্ডেশনের সদস্যদের নিয়ে ৮টি গ্রামে সাবান, মাস্ক, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, প্রতিদিন এলাকায় জীবানুনাশক স্প্রে করা এবং করোনাভাইরাস বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং করা কার্যক্রম শুরু করে।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে অসহায়, গরীব ও দুস্থ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তার ঔষদের দোকান থেকে ১৭ হাজার টাকার ঔষধ বিতরণ করে। গরীব পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণের জন্য তার মায়ের কাছ থেকে আরও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে ৪০টি পরিবারের মধ্যে খাবার বিতরণ করে।
সর্বশেষ তার মাথায় চিন্তা আসে প্রতিবন্ধিদের জন্য কিছু করার। তাই তার মায়ের সাথে পরামর্শ করে পুনরায় মায়ের কাছে টাকা চায়। তার মা তাকে সান্তনা দিয়ে কিছুদিন পর তার হাতে পুনরায় ১৯ হাজার টাকা তুলে দেয়। সন্তান মায়ের কাছে টাকার উৎসের কথা জিজ্ঞেস করলে মা জানায় এগুলো তিনি তার অলংকার বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তানের হাতে টাকা তুলে দিয়ে মা জানায় যা বাবা এবার প্রতিবন্ধি পাশে দাঁড়া। মায়ের কথা মতো জাতীয়ভাবে সকল প্রতিবন্ধিদের পাঁশে দাঁড়ানোর জন্য সে এই অর্থ প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে তুলে দেয়ার পরিকল্পনা করে। সেই অর্থ থেকে আজ ১৫ হাজার ৩শ টাকা কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেয়।