বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
গণতান্ত্রিক পরিবেশকে টিকিয়ে রাখা সরকারি ও বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি কিশোরগঞ্জে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রাম আদালত বিষয়ক আলোচনা সভা সৌদি আরবের তিন শহরে জরুরি সতর্কতা জারি, নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি: ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থাপত্য ও গৌরবের এক অধ্যায় হোসেনপুর নতুন বাজারে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ইউএনওর অভিযান হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আবার গ্রেপ্তার ডাকসুতে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের অবমাননা: ছাত্রদল ট্রলি ব্যাগে নারীর লাশ: প্রেমের সম্পর্কের পর হত্যা, গ্রেপ্তার প্রেমিকসহ তিন পাচার করা সম্পদ থেকে কর আদায়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ নিরাপত্তা শঙ্কায় এনবিআরে প্রবেশে কড়াকড়ি

কারওয়ান বাজার রেললাইন ঘিরে রাজত্ব গড়ে তুলেছে ‘ছোট সম্রাজ্ঞী’ স্বপ্না

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০
  • ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে
মাদক সম্রাজ্ঞী শারমিন ওরফে স্বপ্না

রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু কারওয়ান বাজার সংলগ্ন রেললাইন দীর্ঘ দিন ধরে মাদকের চিহ্নিত স্পট। রেললাইন ধরে হাঁটলেই ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছে থেকে শোনা যায়, ‌’ভাই লাগব। কী লাগব কন। গোডা (ইয়াবা) আছে। যত চান আইন্যা দেওন যাইব। পাতা (গাঁজা) আছে।’ মাঝে মাঝে অভিযানের পর বন্ধ থাকে কারবার। ফের শুরু হয় প্রকাশ্যে বিকিকিনি। জাতীয় দৈনিক সমকালের প্রতিবেদক সাহাদাত হোসেন পরশ-এর একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের নজর এড়িয়ে কারওয়ান বাজার রেললাইন ঘিরে রমরমা হয়ে উঠছিল মাদকের কারবার। এর নেতৃত্বে ছিলেন মাদক সম্রাজ্ঞী শারমিন ওরফে স্বপ্না (২২)। রেললাইন ঘিরে তার রাজত্ব। কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকায় তাকে ‘ছোট সম্রাজ্ঞী’ বলে ডাকা হয়। তার মাথার ওপর রয়েছে আরেক মাদক সম্রাজ্ঞীর ছায়া। দু’জনে চালাচ্ছিলেন ওই সাম্রাজ্য। বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে বিশাল এলাকাজুুড়ে দীর্ঘ দিন ধরেই তাদের রাজত্ব।

স্বপ্না একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়। জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবার জড়ান একই পেশায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযানে কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপ্না ও তার মাদক সিন্ডিকেটের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের একটি দল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রেললাইনকেন্দ্রিক মাদকের বড় সম্রাজ্ঞীকেও খোঁজা হচ্ছে। যার কাছ থেকে পাইকারি দরে মাদক কিনে স্বপ্না তার লোকজনের মাধ্যমে বিক্রি করে আসছিল।

 

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর রশিদ জানান, কারওয়ান বাজার ও এর আশপাশের এলাকার মাদক কারবারিদের নিশ্চিহ্ন করা হবে। মাদক কারবারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেপ্তারে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চলছে। রেললাইন ঘিরে মাদক কারবারে যারা প্রশ্রয় দিচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

 

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন বলেন, রেললাইন ঘিরে মাদক কারবারিরা করোনার এই সময়টাকে মাদক কারবার প্রসারের জন্য বড় ছক কষছিল। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও ফেনসিডিল তারা মজুদ করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরো কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা পলাতক।

পুলিশ সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের একটি দল তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও রেললাইন বস্তি এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেপ্তার হয় মাদক কারবারি স্বপ্না, নুপুর, জাহিদা, ময়না, শিউলী, লিপি, রুবেল, খলিল, রুমু, মোহাম্মদ রুবেল, খোরশেদ আলম পনির, রাজু পাটোয়ারী। তাদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, পারিবারিক সূত্র ধরে স্বপ্না মাদক কারবারে জড়িয়েছে। তার পরিবারে আরও অন্তত ৫ সদস্য মাদক কারবারে জড়িত। মাদক কারবার করেই গাজীপুরে একাধিক বাড়ি ও জমি কিনেছেন। লাখ লাখ টাকার মালিক হয়েছে স্বপ্নার পরিবার। মাদক কারবার নির্বিঘ্নে চালাতে অধিকাংশ সময় রেললাইনের পাশে খুঁপড়ি ঘরেই বসবাস করে স্বপ্না। সপ্তাহে ২-১ দিন গাজীপুরে যায়। মাদকসেবীদের কাছে মাদক পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৫০ জনের বেশি একটি দল রয়েছে তার। মাদক পরিবহনের কৌশল হিসেবে শিশুসহ অনেক নারীদের ব্যবহার করে আসছিল। দু’টি বিয়ে করেছে স্বপ্না। তারাও মাদক কারবারে জড়িত।

পুলিশের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, কারওয়ান বাজার রেললাইনে মাদক কারবারি থেকে শুরু থেকে সেবনকারী এমন কেউ নেই যে স্বপ্নাকে চেনে না। কেউ যদি রেললাইনের পাশে কোনো ছোট ঘরে বসে মাদক সেবন করতে চায় সেই ব্যবস্থাও তার রয়েছে। তবে ওই ঘরের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ভাড়া নেয়। মাদক সেবনের পাশাপাশি কেউ যদি ‘অসামাজিক’ কাজে জড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে, তার জন্য স্বপ্নার রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।

 

জানা গেছে, মাদকবিরোধী কোনো বিশেষ অভিযান শুরু হলে কিছু দিনের জন্য কারওয়ান বাজার রেললাইনকেন্দ্রিক মাদক কারবারিরা গা-ঢাকা দেয়। অভিযান শেষ হলে আবার তারা তাদের নিজ রাজ্যে ফিরে আসে। রাজধানীর অনেক এলাকা থেকে মাদকসেবীরা মাদক ক্রয় করতে রেললাইন এলাকায় আসে। রেললাইন বস্তির একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হলেও মাদক কারবার বন্ধ হয়নি। উল্টো করোনা পরিস্থিতিকে মাদক কারবারিরা সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছিল।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com