মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের কুরমা চা বাগানে মোবাবইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে মুন্না পাশি (১৪) ও জগৎ নুনিয়া (১৫) নামের দুই কিশোরকে ৮ ঘন্টা একটি গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুরদের বাবা ও মা-র কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে বিকাল ৩টায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নির্যাতিত শিশুরা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহন করে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৭টায় এ ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী ও নির্যাতিত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, কুরমা চা বাগানের একটি বাসা থেকে মোবাবইল ফোন চুরির অভিযোগ তুলে চা বাগান হাসপাতালের কোম্পাউন্ডার মামুন কিশোর মুন্না পাশি (১৪) ও জগৎ নুনিয়া(১৫)-কে তাদের বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর কুরমা চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশি, সাদেক ও সাদতসহ কয়েক মিলে চা বাগানের কারখানা এলাকায় নিয়ে একটি গাছের সাথে বেধে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সামনেই দেড়কভাবে পিটায়। পরে বিকাল ৩টা পর্যন্ত কিশোরদের গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়। নির্যাতিত কিশোর মুন্না পাশির বাবা গোপাল পাশি বলেন,কিশোর দুটিকে অন্যায়ভাবে মোবাবইল ফোন চুরির অভিযোগে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেদড়কভাবে পেটানো হয়। ঘঠনাটি চা বাগানের ব্যবস্থাপকের কাছে গেলে পরবর্তীতে নির্যাতনকারীদের বিপদ হবে ভেবে তারা কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে দুটি মুচলেখা নিয়ে বিকাল ৩টা ছেড়ে দেয়।
নির্যাতিত দুই কিশোরকে বিকাল ৪টায় কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নির্যাতিত কিশোরদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় তারা কমলগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে কুরমা চা বাগানের কম্পাউন্ডার হুমাইয়ূন, চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নারদ পাশি, সাদতকে খোঁজ করে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাদের মোবাবইল ফোন কথা বলা যায়নি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন কিশোর দুটিকে বেঁধে রাখা হয়েছিল ঠিক। তবে কোন নির্যাতন করা হয়নি। শুধুমাত্র কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিকাল ৩টায় তাদের অভিভাবকরা আসলে তাদের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় কিশোর দুটিকে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, মোবাবইল ফোন চুরির অপরাধে তাদেরকে আটকানো হয়েছিল। বিকালে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন কুরমা চা বাগান থেকে জানানো হয়েছে আটক দুই কিশোরের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অনেক অভিযোগ রয়েছে।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার( কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আশরাফুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্তক্রমে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।