শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’, ৫ হাজার মানুষের ভোজ করালেন হোসেনপুরের রফিকুল নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, অস্ত্রসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সব তথ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে: আরপিএমপি কমিশনার নেপালের বন্যায় আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রস সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের জানাজা একসঙ্গে কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আহত

নিকলীর হাওরে অবাধে শামুক নিধন কর্তৃপক্ষ নিরব!

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৪৩ বার পড়া হয়েছে
নিকলী মহরকোনা এলাকায় হাসেঁর খাবারের জন্য শামুক ছিটিয়ে দিচ্ছে খামারি

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার অঞ্চলের হাওরগুলোতে অবাধে শামুক ধরা হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য। এদিকে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে শামুক নিধন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছু উল্লেখ্য না থাকায় মৎস্য অধিদপ্তরও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

 

নিকলীর মহরকোনা, ষাইটধার, দামপাড়া, মজলিশপুর কারপাশা, জারুইততলা,গুরুই,ছাতিচর ও বাটিবরাটিয়া উপজেলায় বিভিন্ন হাওরে শামুক নিধন ও বিক্রি চলছে। হাঁসের খামার ও মৎস্য খামারের জন্য হাওরের শামুকের কদর থাকায় সেভাবে বিক্রিও হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহের বিভিন্ন সময়ে নিকলীর বড় হাওর, ঘোড়াউত্রা ও ধনু নদীসহ কয়েকটি হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ‘ভাসান পানির’ মৌসুম থাকায় হাওর এলাকা অনেকটা সুনসান। মাছ ধরার জন্য নির্ধারিত জলমহালগুলোতে মৎস্যজীবীদের একটি অংশ শামুক ধরছে।

 

নিকলী উপজেলার হাওরগুলো থেকে শামুক ধরে সেগুলো ছোট ছোট নৌকা করে হাঁসের খামারের মালিকের কাছে বিক্রি করছে।। এছাড়ারও ঐ শামুক  আবার মাছের খামারিদের কাছেও বিক্রি করছে। প্রতিটি মাঝারি খাঁচা ৫০ থেকে ৬০ টাকা করে বিক্রি করে । যেসব হাওর এলাকার সঙ্গে নিকলী উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে, সেখান থেকে এভাবে শামুক নেওয়া হচ্ছে। মাছের খাবার তৈরির জন্য। শামুকের ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েকজন কারবারির সঙ্গে দেখা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কারবারি বলেন, হাঁসের খামারের মালিকদের কাছে তাঁরা ৫০/৬০ টাকা দরে প্রতি খাঁচা, হাওরের শামুক বিক্রি করেন। আবদুল হাকিম নামের একজন কারবারি বলেন, স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করে শামুক কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করা থাকে। এরপর নৌকা বোঝাই করে শামুক এনে সেগুলো খাচাঁয় ভরে হয়। প্রতি খাচাঁ শামুক ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়।

 

শামুক ধরায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের মজুরিও দেওয়া হয়। নিকলী, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার একাংশজুড়ে বিস্তৃত হাওর। সেখান থেকে রাতে ও ভোরে শামুক ধরা হচ্ছে। নিকলী দক্ষিণ ঘোড়াউত্রা ও চেত্রা হাওর এলাকায় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে নৌকা দিয়ে শামুক আহরণ করে হাঁস ও মাছের খামারে পৌঁছে দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি নিকলীর হাওরের শামুক ধরার কাজে নিয়োজিত কয়েকজনের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। তাঁরা নিজেদের শ্রমিক পরিচয় দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। নির্বিচারে শামুক ধরার বিষয়ে নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, শামুক হাওরাঞ্চলের জলজ প্রাণীর জীবনচক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত। শামুক এভাবে আহরণ করা হলে হাওরের জীববৈচিত্র্য পুরোপুরি নষ্ট হবে। শামুকের প্রজনন ক্ষমতাও নষ্ট হবে। অনেক শামুক আছে, যেগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ খায়। আবার মাছও শামুক খায়। শামুকের সংকট দেখা দিলে মাছেরও আকাল তীব্র হবে।

 

নিকলী মৎস্য কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘শামুক নিধন হলে সরাসরি মাছের ক্ষতি হয় বিষয়টি মৎস্য সংরক্ষণ আইনে স্পষ্ট নয়। শামুক আমাদের প্রাকুতিক সম্পদ। আমি সরজমিনে গিয়ে শামুক নিধন কারিদের ব্যাপারে কঠোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থ নিবো। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com