চার মাস ৬ দিনের ব্যবধানে চলতি বছরের ১২ মার্চ সবশেষ পাগলা মসজিদের আটটি সিন্দুক খুলে নগদ টাকা পাওয়া গিয়েছিল ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা। এছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রূপা তো ছিলই।
কিন্তু এবছর ৩ মাস ১৯ দিন পর সিন্দুক খোলা হলেও প্রায় ১৬ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে! তবে বস্তা বেশি হলে পূর্বের রেকর্ড ভাঙ্গার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না কর্তৃপক্ষ।
কারণ হিসেবে জানা যায়, সবগুলো সিন্দুক ভরে গিয়েছিল। তাই সিন্দুকগুলো নির্ধারিত সময়ের আগেই খোলা হয়েছে। তবে এবার খুচরা টাকার পরিমাণ বেশি। তাই হয়তো চার মাসের আগেই সিন্দুকগুলো ভরে গেছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা আইসিটি) মো. গোলাম মোস্তফা’র নেতৃত্বে সকাল ৮টা থেকে টাকা গুনার কার্যক্রম শুরু হয়। টাকা গুনার কাজে প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, ব্যাংক কর্মকর্তা, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম, পাগলা মসজিদ কমিটি’র সদস্য সচিব ও পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ টাকা গুনার কাজ পরিদর্শন করেছেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
এসময় তিনি জানিয়েছেন, পাগলা মসজিদের এই স্থাপনাটি নতুনভাবে তৈরী করার জন্য সকল প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে চলমান আছে। টেন্ড্রার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা দ্রুতই এর কাজ শুরু করবো।
ফান্ডে কি পরিমাণ টাকা আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, যে পরিমাণ টাকা ফান্ডে জমা আছে তা দিয়ে নতুন স্থাপনার কাজ সম্পূর্ণ করা যাবে আশা করা যায়।
কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন। দানবাক্সে পাওয়া টাকা সাধারণত কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শে বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়ে থাকে।