নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া ১৫টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার রাজধানী ও চাটখিল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহাম্মদ আলী (২৯), আনোয়ার হোসেন রুবেল (৩২), মো. সামছুল হুদা (২৪), মো. কামাল হোসেন ওরফে আকাশ (২৪) ও মো. মিজান (২৩)।
পুলিশ জানায়, রাজধানীর উত্তরাসহ অফিসপাড়া এলাকায় পার্কিং করে রাখা মোটরসাইকেলের ওপর বসে গল্পের ছলে নকল চাবি দিয়ে লক ভেঙ্গে বা খুলে চুরি করে নিয়ে যেত একটি চক্র। চক্রটি ঢাকা থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল নোয়াখালির বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে বিক্রি করতো।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্যরা একেক এলাকা ভাগ করে নিয়ে চুরি করতো। প্রতিটি এলাকায় ৫-৭ জনের একেকটি দল কাজ করে।
নোয়াখালির চাটখীল থেকে চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরত দিয়ে গোয়েন্দা প্রধান বলেন, চক্রের সদস্যরা মোটরসাইকেলের নকল চাবি তৈরি করতো। এরপর টার্গেটকৃত মোটরসাইকেলের কাছে গিয়ে রেকি করতো। এরপর চক্রের এক সদস্য মোটরসাইকেলেরও ওপর বসে গল্প করতো। এর ফাঁকে মোটরসাইকেলে চাবি দিয়ে স্ট্যার্ট করার চেষ্টা করে।
মোটরসাইকেল চালু করতে পারলে নিয়ে নিয়ে সটকে পরতো। অনেক সময় রাতে গ্যারেজের তালা ভেঙ্গে নিয়ে যেতো। এভাবে তারা মোটরসাইকেল চুরি করে নিয়ে যেতো নোয়াখালিতে।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার পাঁচ জনের পেশাই মোটরসাইকেল চুরি করা। কিভাবে মোটরসাইকেল চুরি করতে হয় সেটা তারা ভালোভাবে জানে। চক্রে আরও সদস্য রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলী গোয়েন্দা পুলিশকে জানিয়েছে, তার সহযোগীরা বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকার উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নোয়াখালীর চাটখিল ও সোনাইমুড়ী থানা এলাকায় বিক্রি করতো।
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানায়, নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানাধীন পূর্ব বাজার সংলগ্ন আনোয়ার হোসেন এর গ্যারেজে চোরাই মোটরসাইকেল আছে। গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ আলীর তথ্যের ভিত্তিতে চোর চক্রের মূলহোতা আনোয়ার হোসেন রুবেলসহ অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয় ।
হারুন অর রশীদ বলেন, ঢাকা শহর থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ মোটরসাইকেল চুরি হয় সেই পরিমাণ কিন্তু জিডি হয় না। তাই সকলের কাছে অনুরোধ করব। যেকোনো চুরির ঘটনায় থানায় মামলা না করলেও জিডি করবেন। আমাদের কাছে যে ১৫টি মোটরসাইকেল উদ্ধার হয়েছে তার মধ্যে ৬ জনকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এছাড়া আর যদি কারও মোটরসাইকেল হারিয়ে গিয়ে থাকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাচাইবাছাই করে দিয়ে দিবো।
এক প্রশ্নের জবাবে গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান বলেন, ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যে সকল মোটরসাইকেল আছে তার অধিকাংশের সঠিক কাগজ নেই। তাদের চেক করলে কাগজ দেখাতে পারবে না। সব এলাকায় যদি চেক করা হয় তাহলে অনেক মোটরসাইকেল পাওয়া যাবে। আমরা ঢাকায় চেক করছি। চোরাই মোটরসাইকেলে যার কাছে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাই মোটরসাইকেল কেনার আগে কাগজ যাচাই করে কিনবেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির দক্ষিণখান থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।