মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
২৫ বোয়িংয়ের পর এবার ১০ এয়ারবাস কেনার সিদ্ধান্ত বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সাক্ষাৎ দুর্গাপূজায় টানা পাঁচ দিনের ছুটি, পূজার অনুদান বাড়ল এক কোটি টাকা পাকুন্দিয়ায় পৃথক ঘটনায় ২ কৃষকের মৃত্যু কিশোরগঞ্জে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে পুলিশের মতবিনিময় ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, বাজিতপুরের ওয়াকিলের মৃত্যু কটিয়াদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা দুদকের সংবাদ সম্মেলনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফ মাহমুদের রিট নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট কেন বাধ্যতামূলক নয়: হাই কোর্ট ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৩৬

৫০ বছরে ৫০০ চুরি করেছে চক্রটি

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে
৫০ বছরে ৫০০ চুরি করেছে চক্রটি

দিনের বেলায় রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবনে দরজা ভেঙে স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা চুরি চক্রের সর্দার ও চোারাই মালামাল কেনা দোকানদারসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মে‌ট্রোপ‌লিটন পু‌লি‌শের গোয়েন্দা বিভাগ।

শনিবার রাজধানীর পল্লবী ও তাঁতীবাজার এবং গাজীপুরের টঙ্গি থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চোর চক্রের সর্দার মো. জব্বার মোল্লাহ (৬৭), মো. জামাল সিকদার (৫২), মো. আবুল (৫১), আজিমুদ্দিন (৫২), টঙ্গী এলাকার জুয়েলারি দোকান মালিক মো. আনোয়ার হোসেন (৪৪) এবং তাঁতীবাজার এলাকার জুয়েলারি দোকান মালিক মো. আব্দুল ওহাব (৪৫)।

তা‌দের কাছ থেকে প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণ, ৮২ ভরি রূপা, নগদ প্রায় ১৭ লাখ টাকা, দরজা ভাঙার যন্ত্রপাতি এবং মোবাইলফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

‌ডি‌বি জানায়, প্রথমে বাসা-বাড়ির ছাদে রোদে দেয়া জামাকাপড় চুরি কর‌তো চক্রটি। সেই চোরাই মাল বিক্রি করতে গিয়ে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হন। এরপর তারা একসঙ্গে চুরি করা শুরু করেন। ২০-২৫ বছর ধরে ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দরজা ভেঙে চুরি। এভাবে ৫০ বছর ধরে ৫০০ এর বেশি চুরি করেছে চক্রটি।

রোববার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আ‌য়ো‌জিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএম‌পির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, চুরি করার আগের দিন তারা কথা বলে ঠিক করে নিতেন কোথায় কাজ করা হবে। সে অনুযায়ী পরদিন সকালে তারা ওই এলাকায় হাজির হতেন। একসঙ্গে চা পান করার পর হাঁটতে থাকেন এবং খেয়াল করেন কোন বাসায় দারোয়ান ও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। বাসা টার্গেটের পর দুইজন ভেতরে ঢোকেন, বাকি ২-৩ জন বাইরে পাহারায় থাকেন।

তি‌নি বলেন, গত ১৭ আগস্ট খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ-২ এর ১৫নং রোডে চিকিৎসক দম্পতির বাসায় দিনের বেলায় চুরি হয়। দারোয়ান ও সিসিটিভি না থাকার সুযোগে চোর চক্রের সদস্যরা বাসায় ঢুকে ৩য় তলার দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর আলমারির লক ভেঙে ভেতর থেকে ৪২ ভরি স্বর্ণ ও ৪০০০ ইউএস ডলার চুরি করে। ওই ঘটনায় ডিএমপির খিলক্ষেত থানায় মামলা হলে তদন্তে নামে পুলিশ। শনিবার মিরপুর পল্লবী এলাকার একটি বাসায় ঢুকে চুরি করার সময় হাতেনাতে চোর-চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হারুন অর রশীদ জানান, চোর চক্রটির সর্দার মো. জব্বার মোল্লাহর বয়স ৬৭ বছর। সাদা পাঞ্জাবি-লুঙ্গি, মাথায় টুপি এই বেশভূষাগুলোই এই চোর চক্রের প্রধান হাতিয়ার। দাড়ি- টুপি-পাঞ্জাবি পরনে থাকায় কোনো অপরিচিত ভবনে উঠলেও প্রাথমিকভাবে কেউ তাদের সন্দেহ করে না। কেউ জিজ্ঞাসা করলে কৌশলে তারা সেই প্রশ্নের উত্তর দেন। একটি এলাকা থেকে হাঁটা শুরু করে এবং সুবিধামতো ভবন টার্গেট করে বিভিন্ন ফ্লোরে ঘুরে যে বাসার প্রধান দরজা লক করা থাকে সেই বাসায় বিশেষভাবে তৈরি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে দরজা ভেঙে চুরি করে চক্রটি।

তিনি আরও জানান, ১০ বছর বয়স থেকে জব্বার মোল্লাহ কারওয়ান বাজার, মিরপুরসহ সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকায় টোকাইগিরি করতেন। এ সময় বাসা-বাড়ির ছাদে রোদে দেওয়া জামাকাপড়, জুতা, রড ইত্যাদি চুরি করে বিক্রি করতেন। চোরাই মাল বিক্রি করতে গিয়ে একে অন্যের সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তারা একসঙ্গে চুরি করা শুরু করেন। জব্বা‌রের তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা একাধিক মামলা থাকলেও কখনও গ্রেপ্তার হননি।

গত ২০-২৫ বছর ধরে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দরজা ভেঙে বাসায় ঢুকে চুরি করা শুরু করেন। চুরি করার আগের দিন তারা কথা বলে ঠিক করে নিতেন কোথায় চুরি করা হবে। সেই মোতাবেক পরদিন সকালবেলা তারা ওই এলাকায় হাজির হতেন। এক সঙ্গে চা পান করার পর তারা হাঁটতে থাকেন এবং খেয়াল করে দেখেন কোন বাসায় দারোয়ান ও সিসিটিভি ক্যামেরা নেই।বাসা টার্গেটের পর দুইজন বাসার ভেতরে প্রবেশ করে, বাকি ২-৩ জন বাইরে পাহারায় থাকেন। ১০ মিনিটের মধ্যে চুরি শেষ করে মালামাল ভাগ করে নিয়ে যে যার যার এলাকায় চলে যান। পরদিন আবার অন্য কোথাও চুরির পরিকল্পনা করেন। তারা শুধুমাত্র মূল্যবান অলংকার ও বিদেশি কারেন্সি, টাকা ইত্যাদি চুরি করতেন।

গোয়েন্দা প্রধান বলেন, চোরাই স্বর্ণালংকার ঢাকার তাঁতীবাজারের দুটি দোকান এবং গাজীপুরের টঙ্গী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। তারা শত শত ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ অন্যান্য অলংকার ও পাথর তাঁতীবাজার এবং টঙ্গী বাজারে বিক্রি করতেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, জব্বার মোল্লা চারটি বিয়ে করেছেন। চুরির টাকা দিয়ে তাদের সুন্দরভাবে ভরণ পোষণ করেন। চুরির টাকা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ কেরানীগঞ্জ গাজীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় জমিও কিনেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হারুন অর রশীদ রাজধানীর বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতিটি ভবনে সিসি টিভির ব্যবস্থা করা, দারোয়ান রাখার ব্যবস্থা করবেন। এছাড়া কোনো ব্যবসায়ী যেন চোরাই স্বর্ণ না কেনে সে আহ্বান জানান তিনি।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com