রাজধানীর পল্লবীতে স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান (১৫) হত্যার দায়ে ৮ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত। একইসঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
মঙ্গলবার বিচারক তেহসিন ইফতেখার এ রায় ঘোষণা করেন। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শাহিনুর বেগম ও নান্নু মিয়াকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফয়সাল, আশিক, রাসেল, ওলি, সাদ্দাম, রাব্বি ওরফে ছটু, ইমরান ও রাশিদ। রায় ঘোষণার সময় ৮ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, তাদের প্রথম অপরাধ ও বয়স বিবেচনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হলো।
এর আগে রোববার রায় ঘোষণার কথা থাকলেও রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তেহসিন ইফতেখার রায়ের জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোশারফ হোসেনের একমাত্র ছেলে মেহেদীকে ডেকে পাশের একটি ভবনে নিয়ে যান আসামি ওলি। মেহেদীর ভাগনে অনিক ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সবাইকে জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান মেহেদী অচেতন অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে। পরে তাকে মিরপুরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মেহেদীর বাবা মোশারফ ওই বছরের ১ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, মাদক কারবারের প্রতিবাদ করায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে তার ছেলেকে মারধর করে হত্যা করেছেন।
মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১২ জুন ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন সিআইডির পরিদর্শক মোকছেদুর রহমান। ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। এ মামলায় আদালত ২৫ সাক্ষীর মধ্যে ১২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।