আফগানিস্তানে তালেবান সরকার কর্তৃক দেশটির সব স্থানীয় এবং বিদেশি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) নারীদের নিষিদ্ধ করার পর তিনটি বড় এনজিও তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
একটি যৌথ বিবৃতিতে, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) এবং সেভ দ্য চিলড্রেন বলেছে, তারা নারী কর্মীদের ছাড়া তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে না।
গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে, নারী কর্মীরাই তাদের জন্য সিংহভাগ কাজ করত। তালেবান সরকারের নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটিতে কাজ করা অসম্ভব বলে জানিয়েছে তারা।
কেয়ার, এনআরসি এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সংস্থাগুলো ২০২১ সালের আগস্ট থেকে লাখ লাখ আফগানদের প্রয়োজনে যৌথভাবে পৌঁছাতে পারত না যদি তাদের নারী কর্মীরা না থাকত। জন্য না হয়।
বিবৃতিতে যোগ করা হয়েছে, এনজিওগুলো তাদের সমস্ত প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করছে এবং দাবি করছে আফগানিস্তানে জীবন রক্ষাকারী সহায়তা চালিয়ে যেতে পুরুষ এবং নারীদের সমানভাবে কাজ করার অধিকার দিতে হবে।
গত বছর আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর থেকে তালেবানরা ক্রমাগতভাবে নারীদের অধিকার দমন করে আসছে। গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কয়েকদিন পর শনিবার এনজিওগুলোতে নারীদের নিষেধাজ্ঞা ঘোষনা এই নারীদের ওপর তালেবানের সর্বশেষ আদেশ।
এনজিওগুলোতে নারীদের নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে তালেবানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদেল রহমান হাবিব দাবি করেছেন, বিদেশী সাহায্য গোষ্ঠীর নারী কর্মীরা হিজাব না পরে ইসলামিক পোশাকবিধি ভঙ্গ করেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ করার তালিবানের আদেশের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী কাবুলে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক ডজন নারী। গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ করার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মুসলিম দেশও এর নিন্দা জানিয়েছে।