রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ইউক্রেনকে একটি আল্টিমেটাম দিয়েছেন। যেখানে তিনি রাশিয়ার দখলে নেয়া ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে স্বীকৃতি ও আত্মসমর্পণসহ মস্কোর সমস্ত শর্ত মেনে নিতে বলেন, অন্যথায় রাশিয়ান সেনাবাহিনী ইউক্রেনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবারও শান্তি আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে ঘোষণার একদিন পরই লাভরভের এই মন্তব্য এলো। লাভরভের দাবি, ইউক্রেনকে নিজের ভালোর জন্য মস্কোর ইচ্ছা মেনে চলা উচিত ৷
সোমবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসের ল্যাভরভের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে- ইউক্রেনের শাসকদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোর নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্তকরণ, সেখান থেকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি দূর করা, আমাদের প্রস্তাবগুলি শত্রুদের কাছে সুপরিচিত।
ল্যাভরভ বলেন, এটি খুব সহজ আপনার নিজের ভালোর জন্য শর্তগুলো পূরণ করুন, অন্যথায় বিষয়টি রাশিয়ান সেনাবাহিনী সিদ্ধান্ত নেবে।
তাসের পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে এই সংঘাত কতদিন চলবে, লাভরভ বলেছেন বলটি এখন ইউক্রেনের কোর্টে এবং এর পিছনে ওয়াশিংটন।
এরআগে রোববার, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আবার বলেছেন, মস্কো আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং আলোচনার অভাবের জন্য কিয়েভ এবং তার পশ্চিমা সমর্থকদের দোষারোপ করেছেন। তবে কিয়েভ ও এর পশ্চিমা মিত্ররা পুতিনের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
এরপরই রুশ সেনারা ইউক্রেনের একের পর এক শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা অব্যাহত রেছেছে। অন্যদিকে মস্কো তাদের দখলে থাকা ইউক্রেইনের এক পঞ্চমাংশকে নিজেদের ভূখণ্ডভুক্ত করার স্বীকৃতি চেয়েই যাচ্ছে।
রাশিয়ার জন্য হুমকি হয়ে ওঠা ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও একে নাৎসিমুক্ত করতে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিন প্রতিবেশী দেশটিতে তার ভাষায় ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’শুরু করে। যেখানে কয়েক হাজার ইউক্রেনীয় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং উভয় পক্ষের হাজার হাজার সৈন্য মারা গেছে।
দীর্ঘ এই যুদ্ধ বর্তমানে ১১ তম মাসে প্রবেশ করছে এবং মস্কোর জন্য অগণিত যুদ্ধক্ষেত্রে বাধা সত্ত্বেও, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব এবং দক্ষিণে ভয়ঙ্কর যুদ্ধে নিযুক্ত রয়েছে। যখন রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিদ্যুৎ, তাপ এবং পানি ছাড়াই রয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার তার রাতের ভিডিও ভাষণে বলেছেন, ডনবাস অঞ্চলের পরিস্থিতি কঠিন এবং বেদনাদায়ক। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু করার ফলে, প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এখন বিদ্যুৎবিহীন। এই সংখ্যা ইউক্রেনের জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ।
অন্যদিকে সাবেক সোভিয়েতভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর জোট কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট স্টেটের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন পুতিন।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনো কথা না বলে ইউরেশিয়ান অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর হুমকি ক্রমাগত বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন।
পুতিন বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিশেষ করে বাইরে থেকে, প্রতি বছরই এই অঞ্চলের জন্য হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা ক্রমাগত বাড়ছে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যে মতভেদও বাড়ছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের সেটাও স্বীকার করে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।