নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বিলম্ব, কয়লা সরবরাহ চুক্তিতে দুর্নীতি, নাশকতাসহ বিভিন্ন কারণে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লোডশেডিং-এ দক্ষিণ আফ্রিকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রায় স্থবির ৷ ফলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের ২.৫ শতাংশ থেকে কমে এ বছর ০.৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বিপর্যয়পূর্ণ অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ৷
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সংস্থা এসকম জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটে কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছে তারা৷ এর ফলে দেশটির সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। কলকারখানায় কমেছে উৎপাদন। স্কুলসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোতেও লোডশেডিং-এর প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে তার বার্ষিক স্টেট অব দ্য নেশন ভাষণে রামাফোসা বলেন, আমরা একটি গভীর জ্বালানি সংকটের কবলে রয়েছি। বিদ্যুৎ সংকট ও এর প্রভাব মোকাবেলায় আমরা জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করছি ৷ নতুন বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব বাধা অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ৷
সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমার শাসনামলে দুর্নীতির কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছিল বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি ৷ সেই কারণে বর্তমানে এমন গভীর সংকট দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি ৷
ভাষণে রামাফোসা আরও বলেছেন, সমাজের প্রতিটি অংশকে প্রভাবিত করার জন্য সঙ্কটটি ক্রমবর্ধমানভাবে বিকশিত হয়েছে। কৃষকদের উপর, ছোট ব্যবসার উপর এবং আমাদের পরিবহন নেটওয়ার্কের উপর সংকটের প্রভাব কমাতে আমাদের অবশ্যই কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, দুর্যোগের জাতীয় অবস্থা ঘোষণা করা সরকারকে সংকটে সাড়া দেয়ার জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতা দেয়, যার মধ্যে কম আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব এবং কম তত্ত্বাবধান সহ জরুরি ক্রয় পদ্ধতির অনুমতি দেয়া হয়। আইনটি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে করোনা মহামারীতে আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।