গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানার ভবনের নির্মাণাধীন ছাদ ধসে দুই শ্রমিক মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় শ্রীপুর পৌর এলাকার দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের ছাপিলাপাড়া এলাকার হ্যামস্ গার্মেন্টস লিমিটেডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আরিফুল ইসলাম (২১) লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানার কাশিরাম গ্রামের মো. কান্দুরার ছেলে। তিনি ওই কারখানার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছিল। অপরজন দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নানিয়াটিকর গ্রামের শ্রী রজনী চন্দের ছেলে শ্রী মুকুল চন্দ্র (৩৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ পরিচালক আব্দুল্লাহ্ আল আরেফিন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শিহাব খান জানান, শ্রীপুরের দক্ষিণ ভাংনাহাটি গ্রামের ছাপিলাপাড়া গ্রামের হ্যামস্ গার্মেন্টস্ লিমিটেডের একটি ভবনের ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। বিকেল চারটার দিকে ঢালাইয়ের কাজ চলা অবস্থায় হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। এর নিচে চাপা পড়েন ঢালাই কাজে থাকা নির্মাণ শ্রমিকরা।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ্ আল আরেফিন জানান, বুধবার বিকেলে হ্যামস্ গার্মেন্টেসের ছাদ ঢালাই করার সময় নির্মাণাধীন ভবনটি ধসের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত আরিফুলসহ দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মামুন নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে। উদ্ধার কাজ করছে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিস। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
কারখানার নির্মান ঠিকাদারের দায়িত্বে ছিলেন সারা ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেড। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী শফিক মোল্লা জানান, ভবন নির্মাণের সময় ৭৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কতজন নিখোঁজ আছে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। হতাহতের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
ভবন ধসে এখনো, অনেক নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে তাদের স্বজনরা কারখানার ফটকে ভিড় করছে। ধসে পরা নির্মাণাধীন ভবনের কাজ করছিলেন মুকুল চন্দ্র বর্মন। ধসে পড়ার পর তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে শ্রী ভক্ত চন্দ্র বর্মন। শ্রী ভক্ত চন্দ্র জানান, নির্মাণাধীন ভবনটি ধসে পড়ার পরপরই তার বাবার সাথে থাকা বাকী শ্রমিকরা জানিয়েছে তার বাবা নিখোঁজ রয়েছেন। সাড়ে সাতটা পর্যন্ত তার বাবার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে সে জানায়।