ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। তাই টিউবওয়েলে মিলছে না সুপেয় পানি। ভোগান্তিতে ঘোড়াউত্রা নদীকূলের তিন ইউনিয়নের নিম্ন আয়ের দশ হাজার মানুষ।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন, সিংপুর ইউনিয়ন ও জারুইতলা ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে গেলে এ ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়ে।
গ্রামবাসী জানান, শুষ্ক মৌসুম এলেই এলাকার হাতেচালিত টিউবওয়েলে পানি আসে না। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভোগান্তিতে পড়েন তারা। খাবার পানি দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হয়।
জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়াউত্রা নদীর পানির লেভেল ১৫ থেকে ১৭ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ৩০ ফুট নিচে নামে। এসময় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
সম্প্রতি ওই এলাকায় গিয়ে কথা হয় নিত্যানন্দ দেবনাথ, অনিল দেবনাথ বলরাম সাহা, পরিমল বর্মননেরসঙ্গে। তারা জানান, সোয়াইজনি নদীপাড়ের বাসিন্দারা শুষ্ক মৌসুম এলে হাতেচালিত টিউবওয়েলে পানি পান না। এতে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েন ভোগান্তিতে। বিশেষ করে গৃহকাজে পানি ব্যবহারে নারীদের কষ্ট বাড়ে।
জারুইতলা গ্রামের নিম্ন আয়ের এক পরিবারের গৃহবধূ আম্বিয়া বেগম বলেন, টিউবওয়েল চাপতে গিয়ে বুকে ব্যথা হয়ে যায়। তবুও পানি আসে না। কষ্ট করে দূর থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করি।
সিংপুর গ্রামের মজনু মিয়া বলেন, প্রবাস থেকে স্বজনরা দেশে আসছিলেন। আশা ছিল কিছুদিন থাকবেন। বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা তড়িঘড়ি করে চলে গেছেন। বাড়ির কাছে কারও গভীর নলকূপ নেই। দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়।
বর্মন পাড়া গ্রামের নিতাই বর্মন বলেন, নদীর কাছেই আমাদের বাড়ি। পাঁচ বছর ধরে শুষ্ক মৌসুম এলে পানির স্তর নিচে নেমে যায়। পৌষ মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যায় না। পানির অভাবে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে।
সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বানিয়া হাটি,কামার হাটি,সাহা পাড়া, বর্মন পাড়া, পুকুর পাড় ও ভবাণীপুর মিলে আমার ওয়ার্ড। ছয় গ্রাম মিলে হাতেগোনা কয়েকটি ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এলাকায় শতাধিক সরকারি টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল। এখন পানির ভূগর্ভস্থ স্তর নিচে নেমে গেছে তাই সবকটি টিউবওয়েলে চারমাস পানি আসবে না। এতে আমার এলাকার নিম্ন আয়ের দেড় হাজার মানুষ ভোগান্তিতে থাকবে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অফিসের উপ সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুমে ঘোড়াউত্রা নদীর পানির লেভেল ১৫ থেকে ১৭ ফুট নিচে নেমে যায়। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও ৩০ ফুট নিচে চলে যায়। এতে হাতেচালিত টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল শক্ত হয়ে আসে। আবার পানির লেভেল ওপরে উঠলে বিষয়টি স্বাভাবিক হবে। কিংবা অতি বৃষ্টিপাত হলেও এ সম্যসা কিছুটা সমধান হবে।