রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবমূল্য। চাহিদা বেশি থাকায় শসা, আলু, বেগুন, কাঁচামরিচ, করলা, ঢেড়স, সাজনা, গাজর ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কৃষকদের থেকে কম দামে কেনা সবজি কয়েক মিনিটের ব্যবধানে হচ্ছে দ্বিগুণ। মাছের দামও বাড়ছে। এমন অবস্থায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি কম থাকায় বেড়েছে পণ্যের দাম। তবে বাজার স্বাভাবিক আছে বলে দাবি তাদের।
মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সরজমিনে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বিভিন্ন বাজারের বিভিন্ন দোকান ও আড়ত ঘুরে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ২২-২৩ টাকা কেজি, কাঁচামরিচ ৬০, পেঁয়াজ ৩০-৩৫, শুকনো মরিচ ৪৩০, শসা ২৫-৩০ ও বেগুন ৪০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লেবুর হালি ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে পাইকারি বাজারের পাশেই খুচরা বাজারে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একই পণ্যের দাম বেড়ে হচ্ছে দিগুণ। প্রতিটি সবজিতে দাম বাড়ছে ১০-২০ টাকা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কৃষক ও গ্রাহকরা। এছাড়া তুলনামূলক বেড়েছে মাছেরও দাম। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, গ্রাহক কম থাকায় ভালো মানের সবজি ও পণ্যের দাম কিছুটা বেশি।
নিকলীর রবীন্দ আচার্য্য বলেন, সোমবারবার মরিচ বিক্রি করেছি ৫০ টাকা, আজ দাম একটু কম। একটু আগে শুনলাম কাঁচাবাজারে নাকি ৬০-৭০ টাকা। এতে তো আমাদের কৃষকদের ক্ষতি। সব কিছুর নাকি দাম বেশি। আমরা কৃষকরা তো দাম পাই না।’
নজরুল ইসলাম নামে আরেক কৃষক বলেন, আজ মরিচ বিক্রি করলাম ৪০ টাকা। আমার কাছে থেকে কিনে ৬০ টাকা বেচতেছে। আমরা যা পাই তাই আবাদ করি আর দাম পায় ব্যাসায়ীরা।
গৃহিণী রুনা আক্তার এসেছেন রমজানের বাজার করতে, তবে সবজির দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন তিনি।
রুনা আক্তার বলেন, সব কিছুর দাম বেশি। যেটাই সখ করে কিনতে যাই সেটাতেই মন খারাপ হয়, আমাদের মতো যারা সাধারণ মানুষ আছে তাদের তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই রমজানে যেন বাজার টা স্বাভাবিক থাকে। জিনিসের দাম কমে। তাহলে আমরা একটু শান্তিতে থাকি।
সুরুজ আলী নামের আরেক ক্রেতা বলেন, বাজারে আগের তুলনায় মাছের দাম অনেক বেশি। রুই- কাতল এমনকি পাঙাসের দাম দিগুণ। এভাবে বাজার করা মুসকিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক এনজিও কর্মী বলেন, তুলনামূলক বাজারে দাম অনেক বেশি। আমাদের কথা চিন্তা করে হলেও দামের লাগমটা একটু কমানো উচিত।
হাট ইজারাদারের প্রতিনিধি মোঃ আবদুল মিয়া বলেন, বাজারের দাম ততটা বেশি না। এখানে উৎপাদন কম এবং সে তুলনায় আমদানি কম হওয়ায় বাজারে দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে। তবে এটা বেশি নয়। নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ শাকিলা পারভিন বলেন, রমজানে দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাজার গুলো মনিটরিং করা হচ্ছে, মুল্য বেশি নিলে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।