কিশোরগঞ্জে নিকলী উপজেলার দামপাড়া ইউনিয়নের নোয়াপাড়া বাংলাবাজার-গোবিন্দপুর-বড়কান্দা সংযোগস্থল নরসুন্দা নদীর ওপর নির্মিত সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় ১১ বছর ধরে চার গ্রামের মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এ কারণে সেতুটি ব্যবহারে জনগণের কোন উপকারে আসছে না। ফলে এ সেতু দিয়ে মালসহ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাছাড়া নদীর দুইপারের গোবিন্দপুর, বড়কান্দা ও আছানপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে একমাত্র নোয়াপাড়া বাংলাবাজারে যাতায়াতে সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে দুই পায়ে হেঁটে চলাচল করার জন্য বাংলাবাজারের ব্যবসায়ীরা কিছু মাটি পারলেও বর্ষাকালে সেতুর দুইপার পানিতে ডুবে গেলে এটি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া তিন গ্রামের স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সংযোগস্থলের এ সেতুটি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ বিষয়ে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ৭১ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৪ টাকা ব্যয়ে নিকলীর নোয়াপাড়া-বাংলাবাজার-গোবিন্দপুর-বড়কান্দা সংযোগস্থল নরসুন্দা নদীর ওপর ৩৩ ফুট দৈর্ঘ্য একটি সেতু নির্মাণ করে।
ঠিকাদার তখন সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটি দিয়ে এলাকার জনগণ দুই পায়ে হাটা ছাড়া আর কোন যান চলাচল করতে পারছে না। এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি শুষ্ক মৌসুমে দুই পায়ে হেঁটে ব্যবহার করা ছাড়া কোন কাজে আসছে না। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পূর্বপারে নোয়াপাড়া-বাংলাবাজারে সাপ্তাহিক বৃহস্পতিবার হাটে যেতে তিন গ্রামের মানুষ সেতুটি ব্যবহার করে থাকে। সংযোগ সড়কের অভাবে সেতু দিয়ে যান চলাচল না করায় ব্যবসায়ীরা মাথায় মাল বহন করতে বাধ্য হয়। তাছাড়া বর্ষাকালে নৌকা চলাচলেও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

বাংলাবাজারের পল্লী চিকিৎসক আহাদ জানান, সেতুটি নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে এটি জনগণের কোন উপকারে আসছে না। সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেতু দিলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি দিয়ে কী হবে? তাছাড়া দামপাড়া ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি, টেংগুরিয়া ও নোয়াপাড়া এলাকায় অনেক কাঁচা রাস্তা থাকায় এমনিতেই এলাকার লোকজন যাতায়াতে খুবই ভোগান্তির শিকার হয়।
বাংলাবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বপন মিয়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুকুল মিয়া বলেন, সেতু নির্মাণ করার সময় আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা ঠিকাদারকে সংযোগ সড়কে মটি ভরাটের জন্য বারবার বলেছি। কিন্ত ঠিকাদার মাটি না ফেলেই বিল উত্তোলন করে নিয়ে যায়। এখন প্রতিবছর বাজারের ব্যবসায়ীদের টাকায় সেতুর দুই পাড়ে কিছু মাটি ফেলি মানুষ দুই পায়ে হাটার জন্য।
আরেক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় ছোট-ছোট ছেলে মেয়েরা সেতুটিতে উঠতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে গিয়ে হাত-পা ভেঙে যায়। দামপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আঃ মন্নান বলেন, প্রথমে আমি জানিনা যে সেতু নির্মাণের সাথে সংযোগ সড়কের টাকা আছে। যখন জানতে পারলাম তখন ঠিকাদারকে কয়েক বার বলেছি। কিন্ত ঠিকাদার কাজ না করেই চলে গেছে।
বর্তমানে একই ওর্য়াডের ইউপি সদস্য ইকবাল হোসেন জানান, পাকা সেতু নির্মাণ হলেও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মিত হলেও অদৃশ্য কারণে তখন সংযোগ সড়ক করা হয়নি। এতে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ হচ্ছে, অন্যদিকে টাকাগুলো গচ্ছা গেছে। সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় এমনটি হয়েছে।
দামাপাড়া ইউ পি চেযারম্যান মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার কিছু মানুষ পরিষদে এসেছিল, আমি তাদের বলেছি যদি কোনো বরাদ্দ আসে তবে সংযোগ রাস্তা করে দিবো।
সেই সময়ে নিকলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বর্তমানে চট্রগ্রাম জেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হাসান বৃহস্পতিবার (০১ জুন) বলেন, সেতুটি নির্মাণের পর ঠিকাদার সেতুর দুই পাড়ে বালু মাটি দিয়ে ভরাট করার পর বিল দেওয়া হয়। বর্ষার পানির স্রোতে হয়তো সেতুর দুই পাড়ে বালু সরে গেছে। বর্তমানে কী অবস্থা তা আমার জানা নাই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাকিলা পারভিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, খুঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবো।