সেই আদেশে বলা হয়েছে- স্কুলের সীমানায় ঢুকতে পারবেন না খন্দকার মুশতাক আহমেদ। অ্যাটর্নি জেনারেল এম আমিন উদ্দিন জানিয়েছেন, খন্দকার মুশতাককে সব রকম গভর্নিং বডির মিটিংয়ে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঢুকতে পারবেন না স্কুল ক্যাম্পাসে।
গত ২১ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ধর্ষণ মামলায় রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদকে স্কুলের ত্রিসীমানায় যেতে নিষেধ করে আদেশ দেন।
এ বিষয়ে কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান জানান, মুশতাক আহমেদ ডোনার সদস্য। তার সদস্য পদ বাতিল করার এখতিয়ার আমার নেই। তার সদস্য পদ বা ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন শুধুমাত্র গভর্নিং বডি কিংবা ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। তার সদস্যপদ আদালতও বাতিল করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আপত্তি এসেছে, এটা পরিচালনা পর্ষদকে অবহিত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন সহকারি প্রধান শিক্ষক বলেন, মুশতাকের নাম আসা আমাদের জন্য বিব্রতকর। কিন্তু আইনিভাবে আমাদের কিছু করা নেই। এখন যেহেতু আদালতের পর্যালোচনা রয়েছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে তার নাম বাদ দেওয়া হবে। এটা পরিচালনা পর্ষদের সবোর্চ্চ ফোরামের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ জন্য সভাপতির কাছে মতামত চাওয়া হবে।
তিনি জানান, ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রচুর চাপ রয়েছে। তাই বিষয়টি সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা বিবেচনা করছি। সামনে নির্বাচনে মুশতাক যেন অংশ নিতে না পারে সেই পথ খুঁজছি।
কলেজটির একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন গভর্নিং বডির সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ। এমন অপ্রীতিকর ঘটনার পর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে খন্দকার মুশতাকের গভর্নিং বডির সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে বলে গত কদিন আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।
কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আপিল বিভাগের রায়ের আগেই এই ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া তার নাম ভোটার তালিকায় রাখা যাবে কি না সে ব্যাপারে আপিল বিভাগ স্পষ্ট কিছু বলেনি। কোর্টে রায় পযালোচনা করে তাকে ভোটার তালিকায় রাখা না রাখার বিষয়ে গভর্নিং বডির সভাপতির মতামত চাওয়া হবে। একই সঙ্গে লিগ্যাল বিষয়ে আইজীবীর মতামত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আদালতের নির্দেশনা না মেনেই আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির নির্বাচন-২০২৩ ভোটার তালিকায় খন্দকার মুশতাক আহমেদকে রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকা দেখার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগে আছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাইকোর্টকে বলেন, খন্দকার মুশতাক রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করেছেন। এভাবে কোনো ছাত্রী ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ নয়। এমনকি হাইকোর্ট বলেন, এটা বিকৃত রুচির বিয়ে।
উল্লেখ্য, খন্দকার মুশতাক গভর্নিং বডির সদস্য থাকাকালে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে বিয়ে করেন। এই বিয়ে নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
গত ১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীনের আদালতে মুশতাক আহমেদকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
অন্য শিক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে কারণে এ আদেশ দেন আদালত। সেই সঙ্গে গভর্নিং বডির কোনো কাজেও অংশ নিতে পারবেন না তিনি।