শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আহত আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র শুভশ্রীকে খোলা চিঠি দেবের লোডশেডিং প্রসঙ্গে দুষ্টু লোকে বলে, ‘টুকু আসে, টুকু যায়’ সেপ্টেম্বরে তফসিল, ডিসেম্বরে স্থানীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ: সিইসি নওগাঁয় অগ্নিদগ্ধ ‘পাখিকে’ দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউন নবী স্যান্ডো পাহাড়ি ঢলে ভেসে যাওয়া ছেলের পর মায়ের মরদেহ উদ্ধার ভয়াবহ বন্যায় তছনছ নেপালের রসুয়া, নিহত বেড়ে ৯৫ ছাত্রদল ছেড়ে জাতীয় যুবশক্তিতে, তাড়াইলে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান লিয়ন

নিকলীর কাদামাটির কারিগরদের পেশা বদল

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলি, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
  • ১৮৭ বার পড়া হয়েছে
নিকলীর কাদামাটির কারিগরদের পেশা বদল

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প হলো কাদামাটির শিল্প। এর সুন্দর একটা নাম আছে মৃৎশিল্প। মৃৎ মানে মাটি। মাটির এই শিল্পকে তাই মৃৎশিল্প বলে। আগুন আবিষ্কারের আগে মানুষ কাঁচা খাবার খেত। আগুনের ব্যবহার শেখার পর রান্নাটাও শিখল। রান্নার জন্য দরকার হলো পাত্রের। প্রথম দিকে বাঁশ-খড় দিয়ে তৈরি ঝুড়িতে মাটি লেপে তৈরি হলো পাত্র। মানুষ খেয়াল করল, রান্নার পর পাত্রের মাটির প্রলেপ পুড়ে শক্তপোক্ত হয়ে যায়।

এ ভাবনা থেকেই জন্ম হলো পোড়া মাটির পাত্রের। তবে তখন মাটির পাত্র এত নিপুণ ছিল না। কারণ তখনো চাকা আবিষ্কার হয়নি। হাতে তৈরি পাত্র অত নিপুণ হয় না। এরপর চাকা আবিষ্কার হলো। আদিম মানুষ দেখল, চাকার সাহায্যে পাত্র তৈরি করলে সেগুলো বেশ সুন্দর হয়। এভাবেই জন্ম হলো মৃৎশিল্পের।

আমাদের উপমহাদেশে সর্বপ্রথম মৃৎশিল্পের নিদর্শন পাওয়া যায় মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা সভ্যতায়। মৃৎশিল্পীদের বলা হয় কুমোর বা কুমার। সব কুমোরের নামের শেষে পাল পদবি আছে। কেন এই পদবি ওরা নিজেরাই জানে না। এটা ওদের বংশগত পেশা। নতুন করে অন্য পেশার মানুষকে এ পেশায় নামতে দেখা যায় না।

গাড়ির চাকার মতো একটা চাকা বসানো থাকে কুমারের ঘরের মেঝেয়। গর্ত খুঁড়ে বিশেষ কায়দায় বসানো হয় চাকাটা। একটা লোহার ছোট্ট দর পোঁতা থাকে গর্তে। তার মাথায় গাড়ির চাকার বিয়ারিং লাগানো। সেই দরে ওপর ঘোরে কুমোরের চাকা। চাকার ওপর একটা গোল পাটাতন আছে। তার ওপর বসানো থাকে একতাল কাদা।বাঁশের একটা লাঠি দিয়ে কুমোর একবার করে ঘুরিয়ে নেন চাকা। বাকিটা হাতের কাজ। কলসি, হাঁড়ি, পাতিল, শানকি, মালসা ইত্যাদি নানা রকম জিনিস তৈরি হয় একই কাদা দিয়ে। কুমোর ঠিক করে নেন কী বানাবেন। তারপর চাকার ওপর ঘুরন্ত কাদায় হাত রাখেন। একেকটা জিনিসের জন্য কাদার ওপর হাত রাখতে হয় একেকভাবে, একটু ভুল হলেই সব মাটি। সময় যত যায় কাদার তাল একেক রকম চেহারা ধরে। তখনো বোঝার উপায় নেই জিনিসটা কিসে গিয়ে দাঁড়াবে।

একেবারে জাত শিল্পীর হাত কুমোরদের। নিপুণ হাতে কাদার ওপর ঢেউ খেলিয়ে পাতিলের চেহারা তৈরি করেন। কলসের কথায় ধরা যাক। প্রথম দিকে গোলমতো একটা ফাঁপা জিনিস তৈরি হয়। তারপর ধীরে ধীরে সেটা বড় হতে থাকে। জিনিসটা যত উঁচু হয়, ধীরে ধীরে বেঁকে ছোট হয়ে আসে সেটার মুখ। একসময় কুমোর একটু বেশি জোরে চেপে ধরেন কাদাটা। এবার তৈরি হয় কলসের গলা। তারপর হাত উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নেন তিনি। গলাটা ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। তৈরি হয় কলসের মুখ। এরপর কুমোর ব্যবহার করেন বাঁশের ধারালে চোঁছ। চোঁছটা ঘুরন্ত পাতিলের গায়ে ধরেন। অপ্রয়োজনীয় কাঁদা কেটে মসৃণ হয় কলস। সবশেষে কলসের নিচের দিকে বাঁশের চোঁছটা ধরেন ছুরির মতো করে।

কাদার তাল থেকে কলসটা কেটে আলাদা হয়ে যায় । কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই। কুমোর এবার হাত ঠেকিয়ে ধীরে ধীরে চাকাটা থামিয়ে ফেলেন। তারপর দুহাত দিয়ে আলতো করে ধরেন কলসটাকে। কাটা কলস সাবলীলভাবে উঠে আসে তাঁর হাতে। কুমোর সেটা রেখে আসেন রোদে। শুকানোর জন্য।

একবার চাকা ঘুরিয়ে একটা পাতিল তৈরি হয় দুই-তিন মিনিট সময় লাগে। চাকাটাও ঘোরে খুব সাবলীলভাবে। চাকার ওপর পাতিল কিংবা কলসের অর্ধেকটা তৈরি হয়। এদের তলার দিকটা তৈরি হয় আরেক জায়গায়। একটা শুকনো মাটির ঢিবি থাকে আরেক ঘরে। সেই ঢিবির মাপ পাতিলের তলার সমান। ঢিবির ওপর কাদা বসিয়ে পিটনি দিয়ে পেটান কুমোরের বউ।

কিছু জিনিস তৈরি করেন কুমোর মেয়েরা। যেমন: রুটির তাওয়া, মালসা, শানকির কান্দা ইত্যাদি। এসবের জন্য পাথরের ছোট একধরনের চাকা আছে। মেয়েরা চাকটাকে হাত দিয়ে ঘুরিয়ে এসব জিনিস তৈরি করেন খুব ধীরে ধীরে।

পাতিল রোদে শুকানো হয় দু-তিন দিন। শুকিয়ে সেটা শক্ত-সাদা হয়ে যায়। এরপর পোড়ানো হয় আগুনে। তারপর চুলোর মুখ দিয়ে জ্বাল দেওয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা জ্বাল দিলে লাল হয়ে আসে পাতিলগুলো। তখন সেগুলো বিক্রির উপযোগী হয়।

শুধু হাঁড়ি-পাতিল বানান না কুমোরেরা। নানা রকম খেলনাও তৈরি করেন। ছোট ছোট হাঁড়ি, কড়াই, কলস, পুতুল, ঘোড়া, হাতি ইত্যাদি। নানা রঙে সজানো। ফুল ও নকশা আঁকা। পুজো কিংবা বৈশাখী মেলায় কুমোরদের তৈরি রংবেরঙের খেলনা পাওয়া যায়।

নিকলীর কুমোর পাড়ার হরিদাস পাল বলেন, প্লাস্টিক ও স্টিলের তৈজসপত্র এখন অনেক সুলভ। অনেক বেশি টেকসই। অন্যদিকে মাটির পাত্র সামান্য আঘাতেই ভেঙে খান খান হয়ে যায়। তাই মানুষ এখন আর আগের মতো মাটির পাত্র ব্যবহার করে না। কুমোরদের বেচাবিক্রিও আগের মতো হয় না। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কুমোর পেশা পরিবর্তন করছেন। দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এ মৃৎশিল্প। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো হারিয়ে যাবে পুরোনো এ শিল্প।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com