কিশোরগঞ্জে কুলিয়ারচরে ছয়সূতি বাসষ্ট্যান্ড একালায় ঈদে-মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসকে কেন্দ্র করে ১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৩০জন।
নিহত ব্যক্তির নাম মির মিলন মিয়া (৫০)। সে ছয়সূতি এলাকার একটি কাঠের স মিলের স্বত্বাধীকারি বলে জানা গেছে। জশনে জুলুসে সংঘর্ষ বাধলে মির মিলন আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে নিলে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মিলনের মারা যাওয়ার খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এতে কমপক্ষে ৩০টি ঘর ভাংচুর হয়।
জানা যায়, আজ সোমবার ১২ই রবিউল আওয়াল উপলক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ছয়সূতি এলাকায় স্থানীয় আহলে সুন্নাত আল-জামাত বেলা সাড়ে ১০টায় উপজেলার প্রতাব নাথ বাজার থেকে ঈদে-মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস বের করে। একই সময়ে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ইমাম ওলামা পরিষদ নামে ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড “সিরাতুন্নবী” হিসেবে পরিচিত আরেকটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। ঈদে-মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুসটি কুলিয়ারচরের ছয়সূতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যেতে চাইলে সংঘর্ষের আশংকায় স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসন থেকে নিষেধ করা হয়।
এসময় জশনে জুলুসে অংশ নেওয়া কিছু লোক নিষেধ অমান্য করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌছালে সেখানে এক পর্যায়ে আহলে সুন্নাত আল-জামাত ও ইমাম ওলামা পরিষদের অনুসারিদের মাঝে দাওয়া পাল্টা দাওয়া শুরু হয়। পরে ছয়সূতি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আশ্রয় নেওয়া মুসল্লিদের ওপর আক্রমণ করতে গেলে মসজিদের কিছু কাচের গ্লাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে, আহলে সুন্নাত আল-জামাত ও ইমাম ওলামা পরিষদের সমর্থকদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী মিলন গুরুতর আহত হয়। মিলনকে প্রথমে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর তার অবস্থা অবনতি হলে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। এছাড়াও এঘটনায় কমপক্ষে ৩০জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা ফাতেমাতুয জোহরা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মির মিলন মিয়া নিহত হয়েছেন। তিনি আরো জানান, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।