২৫ মার্চ থেকে ছুটির পরিকল্পনা ছিল বিজিবির সিপাহী মোহাম্মদ বেলাল হোসেনের। পরিবারকে জানিয়েছিলেন ঈদে বাড়ি ফিরবেন এবং সেই অনুযায়ী টাকা পাঠিয়ে ঈদের কেনাকাটার জন্য বলেছিলেন। দুদিন আগে, সোমবার বাড়িতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, বেলাল এলেন একটি নিথর দেহ নিয়ে।
বেলালের পরিবারের কাছে এই দিনটি আনন্দের দিন হওয়ার কথা ছিল, এখন তা শোকের দিনে পরিণত হয়েছে। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল গ্রামে, বেলালের বাবা-মা, স্ত্রী রোকসানা, এবং দুই কন্যার হৃদয়বিদারক আহাজারি আর বিলাপই এখন পুরো বাড়িতে বাজছে।
বেলাল (২৮), মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে, কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত ফাঁড়িতে সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটি নৌকা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে, বাধা দেওয়ার সময় নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান। রোববার দুপুরে তার মরদেহ বঙ্গোপসাগরের শাহপরীর দ্বীপ গোলারচর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
বেলালের পরিবারের সদস্যরা এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে শোকস্তব্ধ। রোকসানা জানান, “সে ২৫ তারিখে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসবে বলে বলেছিল, কিন্তু এখন সে চিরকাল চলে গেল। আমার দুটি শিশু সন্তান নিয়ে আমি এখন কী করব?”
বেলালের বাবা বজলুর রহমান, চোখের জল ফেলে বলেন, “ঈদে আমার ছেলে বাড়ি ফিরবে বলেছিল। আমি তাকে পোশাক কিনে দেওয়ার জন্য টাকা পাঠিয়েছিলাম। এখন সে আর ফিরে আসবে না।”
বেলালের ভাই, নাজমুল হাসান বলেন, “শনিবার বিকালে বিজিবি থেকে এসে জানায়, শুক্রবার রাতে বেলাল নিখোঁজ হয়েছেন। রবিবার যখন আমরা বিজিবি ক্যাম্পে গেলাম, তখন খবর পেলাম যে, রাখাইন এলাকায় তার মরদেহ পাওয়া গেছে।”
মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুর রহমান জানান, “আমরা বিজিবির সিপাহী বেলালের মৃত্যুর খবর পেয়েছি এবং তার পরিবারকে সব ধরনের সাহায্য প্রদান করতে কাজ করছি। সরকারিভাবে যে নির্দেশনা আসবে, আমরা তা দ্রুত বাস্তবায়ন করব।”