ভারতের সংসদে পাস হওয়া বিতর্কিত ‘ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল’ বাতিল এবং মুসলিম নির্যাতন বন্ধ না হলে দিল্লীমুখী লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। বুধবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত গণমিছিল-পূর্ব সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, “গাজা ও ভারত, এই দুটি অঞ্চল আজ বিশ্বের সবচেয়ে সমালোচিত জনপদ। গাজায় ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যা চললেও ভারতের ৩০ কোটি মুসলমানের অস্তিত্ব ধ্বংসের অপচেষ্টায় লিপ্ত মোদীর সরকার। বিতর্কিত ওয়াক্ফ বিলের মাধ্যমে ভারতের প্রায় নয় লাখ একর মুসলিম ওয়াকফ সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র চলছে।”
তিনি দাবি করেন, এই বিল মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিকার হরণের এক সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ। তিনি বিশ্বের বিবেকবান মানুষদের গাজাবাসীর মতো ভারতের মুসলমানদের পক্ষেও রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে গণমিছিল শুরু হয়, যা শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বারিধারায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। ওয়াক্ফ সংশোধনী বিল ২০২৫ বাতিল করতে হবে, ভারতের মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, মসজিদ-মাদরাসা ও ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, সব মুসলিমবিরোধী বৈষম্যমূলক আইন বাতিল করতে হবে এবং মুসলমানদের ওপর চালানো মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, “ভারতের মুসলমানরা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নির্যাতনের শিকার। এ অবস্থায় বিতর্কিত ওয়াক্ফ বিল তাদের ধর্মীয় অস্তিত্ব বিলীন করার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের এই নীতির ফলে কেবল দেশটির অভ্যন্তরীণ শান্তিই নয়, বরং গোটা উপমহাদেশের স্থিতিশীলতাও হুমকির মুখে পড়বে।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট শাহীনূর পাশা চৌধুরী, মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।