শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
তুরস্কে গুলিতে নিহত ৮, হামলাকারী গ্রেপ্তার ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, অধ্যক্ষকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা কোস্টগার্ডের পাঁচ জাহাজের নাম বদল, জাতীয় চার নেতার নাম ও ‘জয় বাংলা’ বাদ ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের পথ নির্ণয়ের তারিখ ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে এ দেশে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকুন্দিয়ায় নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২৯ দিন পর ঢাকায় গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জে ১৫ কেজি গাঁজা ও নগদ টাকাসহ যুবক গ্রেপ্তার এলএনজি বিদ্যুতে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, নতুন বিনিয়োগ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন রোনালদো

অ্যানথ্রাক্স কী, কীভাবে ছড়ায়?

ডেস্ক নিউজ
  • আপডেট সময় সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে
অ্যানথ্রাক্স কী, কীভাবে ছড়ায়?

সম্প্রতি দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা রংপুরে অ্যানথ্রাক্স রোগের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। বিগত দুই মাসে জেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে শতাধিক গরু। এছাড়া পশুবাহিত এই রোগে এখন পর্যন্ত জেলার অর্ধশতাধিক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং এদের মধ্যে পীরগাছা উপজেলায় ২ জন ব্যক্তি মারা গেছেন।

অ্যানথ্রাক্সের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে রংপুর জেলার পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুর উপজেলায়। মিঠাপুকুরে সরকারি হিসেব অনুযায়ী আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬ জন হলেও স্থানীয়রা বলছে, নারী-পুরুষসহ ১৫ জনেরও বেশি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। রংপুরের পাশাপাশি মেহেরপুরের তিন উপজেলায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬৪ জন, যাদের প্রায় সবাই গাংনি উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলায় অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

অ্যানথ্রাক্স সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতার অভাবে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক এই ব্যাধি এবং এ রোগের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। অ্যানথ্রাক্স কী, কীভাবে ছড়ায়, এবং এর লক্ষণসমূহ ও প্রতিকার সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

অ্যানথ্রাক্স কী?

অ্যানথ্রাক্স মূলত একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত গুরুতর সংক্রামক রোগ। ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে এ রোগের সৃষ্টি। এই ব্যাকটেরিয়াটি সংক্রমিত দেহে সংক্রামক স্পোর (বীজাণু বা রেণু) তৈরি করে থাকে, যেটা দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে সক্ষম।

অ্যানথ্রাক্স একটি জুনোটিক রোগও বটে। অর্থাৎ, এটি মূলত প্রাণীদের প্রভাবিত করে। সাধারণত গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষের মতো গবাদিপশুর শরীরে বাসা বাঁধে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। তবে সংক্রামিত প্রাণী বা তাদের বিভিন্ন পণ্যের (পশু পণ্যের) সংস্পর্শে এলে মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে অ্যানথ্রাক্স। অর্থাৎ, গবাদিপশু থেকে মানুষের এ রোগে সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণত এই রোগটি মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না। তবে এর দরুন সৃষ্ট ত্বকের ক্ষত অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। উল্লেখ্য, ব্যাসিলাস অ্যানথ্রাসিস নামক ব্যাকটেরিয়াটির স্পোর (বীজাণু বা রেণু) প্রতিকূল পরিবেশ পেলে দীর্ঘকাল- এমনকি শতাব্দীর পর শতাব্দী পর্যন্ত- সুপ্ত অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারে।

অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণ

কীভাবে ছড়ায় অ্যানথ্রাক্স? পশুবাহিত এই রোগটি মূলত ব্যাকটেরিয়াজনিত স্পোরের (বীজাণু বা রেণু) মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। মানুষ যদি সংক্রামিত কোনো পশু বা তাদের দেহাংশ, রক্ত বা পশু পণ্যের (যেমন চামড়া, পশম/উল) সংস্পর্শে চলে আসে, তাহলে মানুষের দেহেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এই রোগ। সাধারণত তিনটি উপায়ে মানুষ অ্যানথ্রাক্স রোগে সংক্রমিত হয়ে থাকে:

ত্বকের মাধ্যমে (কিউটেনিয়াস): ত্বকে (স্কিনে) কাটা বা ক্ষতের মাধ্যমে স্পোর (বীজাণু বা রেণু) মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। অর্থাৎ, অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশুর চামড়া বা পশমের সংস্পর্শে এলে এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে মানুষ।

শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে (ইনহেলেশনাল): অ্যানথ্রাক্স স্পোরযুক্ত বাতাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারে মানুষের ফুসফুসে। অর্থাৎ, আক্রান্ত পশুর কাছাকাছি অবস্থানকালে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়াজনিত স্পোর জায়গা করে নিতে পারে মানুষের দেহে।

খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে (গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল): সংক্রমিত পশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমেও মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

অ্যানথ্রাক্স রোগের উপসর্গসমূহ

অ্যানথ্রাক্স-এর ব্যাকটেরিয়াজনিত স্পোর মানুষের শরীরে কীভাবে প্রবেশ করছে- অর্থাৎ একজন ব্যক্তি কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছে- তার ভিত্তিতে এ রোগের উপসর্গে ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। চলুন উপসর্গগুলো জেনে নেওয়া যাক:

কিউটেনিয়াস (ত্বকের) অ্যানথ্রাক্স: প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে পোকার কামড়ের মতো দেখায় এমন ছোট, চুলকানিযুক্ত বাম্প দেখা যায়। তবে গুরুতর অবস্থায় এটি দ্রুত একটি ব্যাথাহীন আলসারে পরিণত হয়, যার কেন্দ্রে থাকে একটি কালো অংশ (এসচার)। সাথে থাকতে পারে জ্বর ও মাথাব্যথাও।

ইনহেলেশনাল (শ্বাসনালী/ফুসফুসের) অ্যানথ্রাক্স: প্রাথমিক অবস্থায় সংক্রমিত ব্যক্তির দেহে ফ্লু-সদৃশ বিভিন্ন লক্ষণ যেমন জ্বর, কাশি, পেশী ব্যথার আবির্ভাব হয়ে থাকে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা খারাপ হলে কয়েক দিনের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, রক্তক্ষরণসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই ধরণেই অ্যানথ্রাক্সই সবচেয়ে মারাত্মক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (পরিপাকতন্ত্রের) অ্যানথ্রাক্স: শুরুতে বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর, পেটে ব্যথা ও গলা ব্যথা হয়ে থাকে। কিন্তু রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে পেটে ব্যথা, রক্তাক্ত ডায়রিয়া, রক্ত বমি এবং অন্ত্রের প্রদাহ হতে পারে।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধ বা প্রতিকারে করণীয়

অ্যানথ্রাক্স মারাত্মক সংক্রামক রোগ হলেও এর প্রতিকার সম্ভব। এ জন্য করণীয় বেশ কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো পালন করলে এ রোগের সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়।

১। পশুদের নিয়মিত অ্যানথ্রাক্স টিকা দিতে হবে।

২। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত পশু বা এ রোগে মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

৩। এ রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত পশুর জবাই বন্ধ করতে হবে।

৪। অ্যানথ্রাক্স রোগে মৃত পশুকে ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই মাটির গভীরে পুতে ফেলতে হবে। এমনকি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এমন সম্ভাবনা থাকলেও মৃত পশুকে যথাযথভাবে সৎকার করতে হবে।

৫। অ্যানথ্রাক্স রোগে মারা যাওয়া পশুর সৎকারের সময় অবশ্যই গ্লাভস ও সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com