বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
বরগুনায় নদীর তীরে ভেসে এল ৩২ ফুট লম্বা তিমির মৃতদেহ কোচিং বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ; কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু, সভাপতিত্ব করছেন খলিলুর রহমান সরকারও আশির দশকে ফিরে যেতে চাইছে: নাহিদ ইসলাম আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘আমলযোগ্য’, তাই অনুসন্ধান: দুদক সচিব হোসেনপুরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে সমবায় বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নওগাঁর পত্নীতলায় বাণিজ্য মেলায় লটারির ড্র না হওয়ায় ভাংচুর-লুটপাট কওমি মাদরাসায় মানসম্মত পাঠদান, তাড়াইলে শিক্ষকদের নিয়ে কর্মশালা কনসার্টে শেখ হাসিনার নামে স্লোগান, আয়োজক গ্রেপ্তার ডেঙ্গুতে এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড

চা বাগানে উৎপাদিত মাদক সেবনে বিপর্যস্ত যুবসমাজ

সালাহউদ্দিন শুভ
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ৬৩৯ বার পড়া হয়েছে

“চা বাগানে উৎপাদিত মাদক পান করে চা শ্রমিক পরিবার সমুহে সবসময়ে ঝগড়া, কলহ, হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। দীর্ঘ সময় থেকে চলে আসা এই প্রবণতা কোনমতেই রোধ হচ্ছে না। শুধুমাত্র শমশেরনগর চা বাগানে ৬৫টি পরিবার মাদক উৎপাদনের সাথে জড়িত। কানিহাটি বাগানে মাদকের ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। চা বাগানে মাদকের উৎপাদন ও সেবন বন্ধে আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করে সভা করেছি এবং পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।” কথাগুলো বলেন জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শমশেরনগর চা বাগানের চা শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাস।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন চা বাগান সমুহে ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত হয়ে আসা মদের যে সমারোহ ছিল তা এখনও অব্যাহত আছে। সারাদিন পরিশ্রমের পর সন্ধ্যা হলেই মাদক সেবন করে মাতাল শ্রমিকরা পরিবারে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে ঝগড়াঝাটি, হানাহানি, ভাঙচুর সহ নানা ধরণের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। ফলে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়াও বিপর্যস্ত হচ্ছে চা বাগানের মাদকাসক্ত যুব সমাজ। মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগানের লেবার লাইনের মধ্যে অবৈধভাবে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে মাদক। অবাধে গড়ে উঠা মদের পাট্টায় তৈরি হওয়া মদের মধ্যে ‘চোলাই’ ও ‘হাড়িয়া’ নামে পরিচিত। চা বাগানে মদ পান করছেন প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ শ্রমিক। সময়ের সাথে যুক্ত হচ্ছেন বস্তির একটি অংশ।

চাতলাপুর ও কানিহাটি চা বাগানের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শমশেরনগর থেকে সরাসরি ভারতের ত্রিপুরা-কৈলাশহর ও শুল্ক স্থলবন্দর রুট থাকায় ভারতীয় মাদকের বিস্তার লাভ করছে। সম্প্রতি সময়ে চাতলাপুর ও কানিহাটি চা বাগানে বাগানের মাদক ছাড়াও ইয়াবা, ফেন্সিডিলসহ ভারতীয় মাদক সেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মাদকসেবীরাও এসব স্থানে এসে আড্ডায় মেতে উঠেন।

কয়েকটি চা বাগান ঘুরে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চা বাগান সমুহে এখনও প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ শ্রমিক ও যুব সমাজ মদ পানে আসক্ত। সন্ধ্যার পরেই মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে মদ পান করেন। নিশাদল, চিটাগুড়, ইউরিয়া সার, পুরাতন ভাত এসব নানা পদার্থ দিয়ে চোলাই ও হাড়িয়া মদ তৈরী হয় বলে তারা জানান। যারা বেশি পরিমানে মদ পান করে তারা মাতাল হয়ে ঝগড়া-ঝাটি, স্ত্রী, সন্তানদের মারধোর করে। ঘরে গিয়ে হাড়ি-পাতিল, চুলা ভেঙ্গে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। পঞ্চাশ ভাগ পুরুষ এর মধ্যে যুবকরাই বেশি আসক্ত বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন।

শমশেরনগর দেওছড়া চা বাগানের দেওরাজ রবিদাস বলেন, ‘বাগানে যারা মদ পান করে তারা প্রতি রাতে উপার্জিত সব টাকা দিয়ে মদ কিনে খায়। এরপর মাতাল হয়ে ঝগড়াঝাটি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।’ কানিহাটি চা বাগানের অর্চনা বাউরী, সরসতি মৃধা, মীনা বাউরী, আলীনগরের নান্সী রিকিয়াশন, সুমিত্রা রিকিয়াশন, দেওন্তী বাউরী জানান, ‘তাদের স্বামীরা সন্ধ্যার পর মদের পাট্টায় গিয়ে মদ পান করে মাতাল হয়ে রাস্তাঘাটে ও ঘরে এসে ঝগড়া-ঝাটি, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। সন্তানদেরও গালিগালাজ করেন।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে চা বাগানের একজন শ্রমিক নেতা বলেন, চা বাগানে যে কি পরিমাণে শ্রমিকরা মাদকাসক্ত হয়ে বিশৃঙ্খল জীবন ধারন করছে সেটি বলতে আমাদের লজ্জা হয়। প্রায় অর্ধ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক সারাদিনে পরিশ্রম করে যে টাকা পায় সেটি দিয়ে মদ পান করে। ফলে শ্রমিকদের শারীরিক নানা সমস্যা ও পরিবার সমুহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।
আলীনগর চা বাগানের রাজদেও কৈরী বলেন, ‘চা বাগানে উৎপাদিত মদের পাট্টায় এখন বস্তির যুবকদেরও দেখা যায়। এসব মদ পান করে যুব সমাজ ধ্বংস, মানুষের জীবন যাত্রায় ব্যাঘাত, পরিবেশ বিনষ্ট, শারীরিকভাবে সমস্যাসহ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরনে চা বাগান সমুহে অবৈধভাবে মদের পাট্টা সমুহ বন্ধ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য ও শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, ‘চা বাগানে মাদক বন্ধে এখন আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সভা করছি।’

এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক অরুপ কুমার চৌধুরী বলেন, ‘চা বাগানের মধ্যেও সব সময় অভিযান পরিচালিত হয়। খবর পেয়ে যাওয়ার পর কাউকে পাওয়া যায় না। চুলা ও হাড়িপাতিল ভেঙ্গে দেয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে মামলাও দেয়া হচ্ছে। মাদক বন্ধে এখন চা বাগানে সচেতনতা মূলক সভাও হচ্ছে। সকলের সহযোগিতা পাওয়া গেলে দ্রুত এসব বন্ধ করা সম্ভব হবে।’

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com