মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ত্রীপুরা সীমান্তবর্তী ইসলামপুর ইউনিয়নের নওয়াগাঁও এলাকা থেকে গত ২৪ ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়েছিল নুরুল ইসলাম (২২) নামের এক মানসিক প্রতিবন্ধী।
নিখোঁজের ৫দিন পর রোববার সন্ধ্যার আগে বাংলাদেশ ও ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তের ৯৪/২৪ সীমান্ত খুটির নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকার একটি পাহাড়ি ছড়ায় তার লাশ পাওয়া যায়। সে মুসলিম মণিপুরী সম্প্রদায়ের নওয়াগাঁও গ্রামের জোয়াদ আলীর বড় ছেলে।
কমলগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর বিকাল ৪টায় মানসিক প্রতবিন্ধী নুরুল ইসলাম বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। রোববার বিকালে ভারতের ত্রিপুরার কমলপুর এলাকার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সদস্যরা পাহাড়ি ছড়ায় তার লাশ দেখে কুরমা সীমান্ত ফাঁড়ির বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের খবর দেয়। বিজিবি সদস্যদের মাধ্যমে কমলগঞ্জ থানার পুলিশ জেনে রোববার রাত ১১টায় সন্ধ্যার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ ও উপ-পরিদর্শক আব্দুস শহীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থলে পৌছে। সেখানে লাশের সুরতহাল তৈরী করে লাশ নিয়ে সোমবার সকাল ৮টায় কমলগঞ্জ থানায় পৌছে।
নিহতের ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে রোববার বিকালে ইসলামপুর ইউনিয়নের চাম্পারায় চা বাগানের তৈলং বাড়ি এলাকার গভীর বনে নো-ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন একটি পাহাড়ি ছড়ায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে বিএসএফ কুরমা বিজিবি ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যদের খবর দেয়। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার ছবি ধারণ করে এনে পরিবার সদস্যদের দেখালে তারা তাকে সনাক্ত করেন।
কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র নাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির মাধ্যমে খবর পেয়েছেন। রোববার রাত ১১টায় রওয়ানা দিয়ে ঘটনাস্থল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পৌছেন রাত সাড়ে ৩টায়। ঘটনাস্থলে যেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিএসএফর কয়েকটি সীমান্ত ফাঁড়ি এলাকা অতিক্রম করে যেতে হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যরা দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারতেন। সোমবার সকাল ৮টায় লাশটি উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।