মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মঙ্গলবার রাত থেকে মৃদু শৈত প্রবাহে শীতের তীব্রতায় ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে হিমেল বাতাস আর কুয়াশায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কনকনে ঠান্ডায় কমলগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে।
মৃদু শৈত প্রবাহে শীতের তীব্রতায় কমলগঞ্জে জনজীবন বিপর্যস্থ হলেও প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে খেটে খাওয়া মানুষজন বের হয়েছেন ঘর থেকে। গত কয়েকদিনে কমলগঞ্জ উপজেলা জুড়ে মৃদু শৈত প্রবাহে শীতের তীব্রতায় দেখা দিয়েছে ঠান্ডা জনিত নানা রোগ। বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি, কাশি জনিত রোগের প্রকোপ। আর ঠান্ডা জনিত রোগের বেশী শিকার হচ্ছে শিশু ও বয়ষ্করা। বিশেষ করে উপজেলার চা বাগান এলাকায় শীতের তীব্রতায় হত দরিদ্র চা শ্রমিক পরিবারের শিশু বৃদ্ধরা কষ্ট পাচ্ছেন বেশী। এরই সাথে শীতের তীব্রতায় গৃহ পালিত পশু নিয়ে বিপাহে পড়েছেন কৃষক ও চা শ্রমিকরা।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত দিনে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৯০ জন রোগী চিকিৎসা গ্রহন করেছেন। বর্তমানে অর্ধ শতাধিক রোগী বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
চিকিৎসাধীন কয়েকজন শিশু রোগীর অভিবাবকরা জানান, ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের সন্তানরা কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেলাইন ছাড়া বাকি সব ঔষধ তারা বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজেদুল কবির বলেন,শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে আসছেন শিশুরা। তবে আতঙ্কিত হওয়ার মত কিছু নেই। শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান বুধবার সকালে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, বুধবার সকালে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল উপজেলায় সর্ব নিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। দিনে তাপমাত্রা কিছু বাড়লেও সন্ধ্যার পর থেকে আবারও তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। আগামী ২/৩ দিন আবহাওয়া এ ধরনের থাকতে পারে বলে শীতের তীব্রতা বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।