চলমান করোনা পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নি¤œ আয়ের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। গত ১৫ দিনের টানা অঘোষিত লকডাউনে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর মধ্যে চরম হতাশ হয়ে পড়ছেন দৈনিক শ্্রম বিক্রির ভিত্তিতে খেটে খাওয়া সাধারণ লোকজন।
চলমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে চিন্তিত তারা। করোনার চেয়ে বেশি চিন্তা করছেন সংসার চালানো নিয়ে।
নিকলী উপজেলা সদরসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নি¤œ আয়ের মানুষের সাথে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।
নিকলী সদর বাজারের লেপ-তোষকের কারিগর বলেন। এ ব্যবসা দিয়ে চার ছেলেমেয়ের পড়াশোনাসহ ছয সদস্যের পরিবার টানাটুনি করে চালাচ্ছেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে দোকান বন্ধ।
না খেয়ে থাকলেও সংসার চালানো নিয়ে চরম হতাশ হয়ে দোকানের সামনে বসে আছেন। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাব। করোনার চেয়ে বেশি টেনশন সংসার নিয়ে। উপজেলা থেকে তালিকা নিবে শুনছি। কবে তইলকা নিবে আর কবে খাদ্য সহায়তা পাই কে জানে?
তার পাশে বসে আছেন মস্তু মিয়া নামের একজন যিনি একটি হোটেলে দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন।
তিনি জানান, তার আয়ে চলে ছয় সদস্যের পরিবার। গত ১৫ দিন ধরে কাজ বন্ধ। এভাবে ঘুর খরচ বেশি। গত ১৫ দিন ধরে আয় রোজগার বন্ধ। আর কয়দিন চলবে কেজানে। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরব।
নিকলী সদর বাজারে সেলুনের কাজ করেন রিপন নামের একজন জানান, দুই সপ্তাহ ধরে কাজ বন্ধ। অন্য দোকানপাট কিছুটা খোলা থাকলেও সেলুন একদম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আর কয়দিন এভাবে থাকতে হবে তা ভেবেও হতাশ তিনি।
উপজেলার বিভিন্ন বাজারের এসব নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের দুর্ভোগের কথা জানান। তারা জানান, বড় লোকেরা হয়তো ঘরে থেকে এভাবে চলতে পারবে। কিন্তু আমাদের কি হবে?
আমরা তো দিন আনি দিন খাই। এভাবে চলতে থাকলে আমরা শেষ হয়ে যাব। এ দুর্যোগে সরকার বিভিন্ন সহায়তার আশ্বাস দিলেও কিছু- কিছু লোকজন পাচ্ছে। অন্যরা তা না পেয়ে হতাশ।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত খেটেখাওয়া হতদরিদ্রের তালিকা করে দ্রুততম সময়ে সহায়তা করার অনুরোধ করেন এসব নি¤œআয়ের লোকজন।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, আমরা নি¤œ আয়ের লোকজনের নামের সঠিক তালিকা তৈরি কাজ শুরু করবো। আশা করছি বরাদ্দ পেলেই তাদের ঘড়ে-ঘড়ে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী পৌচ্ছে দিবো।