কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওর জুড়ে পাকতে শুরু করেছে বোরো ধান। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বন্ধ দোকানপাট। বন্ধ কামারের দোকান। তাই ধানকাটার কাস্তেসহ উপকরণ সংগ্রহ করতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষক-শ্রমিক। স্বপ্নের ফসল ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে হাওরাঞ্চলের কৃষকের।
আধুনিক যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতায় চাষাবাদ থেকে শুরু কওে ধানকাটা দাওয়া-মাড়াই পর্যন্ত হাওরাঞ্চলের কৃষক ধান কাটার শ্রমিকগণ মধ্যযুগীয় যন্ত্রপাতি নির্ভর। কাস্তের মতো সাধারণ কিন্তু প্রয়োজনীয় এসব সামগ্রীর প্রধান উৎস কামারশিল্প। মেরামত বা কাজের উপযোগী করতেও একমাত্র সমাধান কামারশিল্পরা।
কৃষি শ্রমিক নিকলী সদরের নয়াহাটি গ্রামের মরু মিয়া জানান, জমি কাটায় যাইবো ক্যামনে, কাঁচি (কাস্তে) তো পাইতাছি না। কামারের দোকান বন্ধ। হাট বাজারও বন্ধ। ঘরে যেইটা আছে হেইডারেও মেরামত করার ব্যবস্থা নাই।
পুকুরপাড়ের মাড়াই কল মালিক কাদির মিয়া বলেন, এক বছর যাবৎ মাড়াইকলডা পরা। মারাইকলের যন্ত্র ভোঁতা অইয়া রইছে। কিছু কামকাজ না করাইলে কল লইয়া মাঠে গেলে কি অইবো। কামার আর ওয়ার্কসপ বন্ধ। মারাইকল ঠিক করানির লাইগ্যা দৌড়তাছি।
নিকলী সদরের নতুন বাজার এলাকার মিন্টু কর্মকার বলেন, যারা দোকান খুলেই জরিমানা করে। গরীব মানুষ আমরা। দিন আনি দিন খাই। দোকান বন্ধ। কৃষকরা তো বাড়িত গিয়া ত্যাক্ত করে। যে অবস্থা চলতাছে ভাই, ঘরে খাবার নাই। আবার জরিমানা দিবাম ক্যামনে। সরকারতো আমরার ভালার লাইগ্যাই করতাছে। ইহানো কারে কি কইয়াম। নিজের ভাগ্যরেই দোষি।
নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউওএন) সামছুদ্দিন মুন্না বলেন, জরুরি কোন কিছু বন্ধ নয়। তবে কৃষি উপকরণ সামগ্রীর দোকান খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।