কিশোরগঞ্জের নিকলীতে আলামিন (৩৫) নামের এক যুবলীগ নেতার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগের স্বগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো.আরিফ মিয়া। এর জের ধরে আলামিনের সমর্থকরা বাড়িঘর ভাংচুর ও লুঠপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরিফ সমর্থকরা। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১৫ই মার্চ) রাতে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা সদরের পূর্বগ্রামে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিকলী উপজেলা সদরের পূর্বগ্রাম নয়াহাটির আশার আলো নামের একটি সংগঠনের কার্যালয়,একটি গ্যারেজ, একটি বসতবাড়ি কুপিয়ে তছনছ করা হয়েছে। ৫টি বৈদ্যুতিক মিটার ভাংচুরসহ সংগঠনটির ভিতরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের কয়েক হাজার টাকা মূল্যের পাটকড়ি পুড়া অংশ পরে রয়েছে। গ্যারেজ মালিক ও আরিফ সমর্থক জিয়া (৪৫) জানায়, নিকলী উপজেলা সদরের পূর্বগ্রাম বাজারহাটির গোলাপ মিয়ার পুত্র ও উপজেলাযুবলীগ নেতা আলামিনের সাথে মঙ্গলবার বিকালে নয়াহাটির গোলাপের পুত্র ফয়সাল (২৫) ও একই এলাকার আলাল উদ্দিনের পুত্র নিঝুমের (১৮) ঘোড়াউত্রা নদীর পাড়ে তর্ক বাধে।
বাড়ি ফিরে ফয়সাল ও নিঝুম আলামিনকে একা পেয়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। কিছুক্ষণ পরেই আলামিনের সহ¯্রাধিক সমর্থক দা, লাঠিসোটা নিয়ে নয়াহাটি গ্রামে আক্রমন করে। এতে ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলাল উদ্দিন (৬৫) ও তার পুত্র ওয়ার্ড যুবদলের সেক্রেটারি আলামিনসহ কয়েকজন আহত হয়। আহত দুজন ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।পূর্বগ্রাম আশার আলো সংগঠনের সভাপতি রুবেল জানায়, আক্রমনকারিরা সংগঠনের এলইডি টিভি, চেয়ার নিয়ে গেছে। পাশের একটি পরিবারে বাড়ি লুঠপাঠ চালিয়েছে। থানা পুলিশ এসে পরিস্থি’তি নিয়ন্ত্রণে আনে।
যুবলীগ নেতা আলামিনের সাথে দেখা হয় বাজারহাটি তার’ বাড়িতে। এসময় তার বাম হাত প্লাস্টার করা ও ডানহাতের আঙ্গুলে ধারালো অস্ত্রের আঁচড় দেখা যায়। তিনি বলেন, এলাকায় আমার বিপুল জনমত রয়েছে। নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নিকলী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহম্মেদ তুলিপ প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে।আমাকে বিরক্ত করতে আমার এলাকার বিএনপি মো.আরিফ মিয়াকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক করেছিলো।যে কমিটি স্ব’গিত করা হয়েছে। নদীর পাড় থেকে আসার পথে আরিফ ও তার লোকজন পরিকল্পিত ভাবে আমাকে অতর্কিত আক্রমন করেছে। রড দিয়ে আমার বাঁ হাত ভেঙ্গে দিয়েছে আরিফ। নিঝুম ও ফয়সালের দায়ের কোপ ফেরাতে গিয়ে ডান হাতের আঙ্গুল জখম হয়েছে।প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে আক্রমন ও লুঠপাট,অগ্নিসংযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজেদের দোষ আঁড়াল করতে গিয়ে তারা নিজেরাই করেছে। আমার লোকজন যেতে চেয়েছিলো সত্য। কিন্ত ওদের কান্ড দেখে দুর থেকেই ফিরে আসে।
নিকলী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহম্মেদ তুলিপ জানান, সংঘাতের ঘটনাটি আমিও শুনেছি। এটা এলাকার দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ আছে শুনেছি। এর বেশি কিছুই জানিনা। সে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করছে হয়তো।
নিকলী থানার পুলিশ ইনচার্জ মো.শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, ঘটনা শোনামাত্র ফোর্স পাঠিয়েছি। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।