কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড কুর্শা (পূর্বপাড়া) গ্রামে গত ৪ঠা এপ্রিল ইটের সলিং রাস্তার কাজ শুরু করেন একই এলাকার সাব- কন্ট্রাক্টর মোঃ বাচ্ছু খাঁন নামে একজন ঠিকাদার। মাত্র ৩ দিনে কাজ প্রায় ২০০ মিটার লম্বা ও ৩ মিটার প্রস্থের রাস্তাটির সলিং কাজ সমাপ্ত করেন।
সলিংয়ের কাজ শেষ করার তিন সপ্তাহের ভিতরেই দুদিনের বৃষ্টিতে উক্ত রাস্তাটিতে মোট ৫টি জায়গায় বেশ বড়সরো ভাঙ্গন ধরেছে। এর কারন রাস্তার সাইডে কোন সাপোর্ট বা নিরাপত্তা বেষ্ঠনী না থাকার ফলে এই ভাঙ্গন ধরেছে বলে এলাকার লোকজন মনে করেন।
রাস্তর পাশের বসতী মোঃ উমরিত মিয়া বলেন রাস্তার সাইডে যখন ঠিকাদারের লোকেরা কচুরিপানা মিশ্রিত ফেরা মাটি দিচ্ছিলেন তখনও বলেছি এই মাটি বৃষ্টিতে ঠিকবেনা আবার যখন ইট বিচানো হইছিলো তখনও না করেছিলাম কিন্তুু ঠিকাদারের লোকজন আমার কথা কর্নপাত করেনি।
একই এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুজিবুর রহমান (জীবন) মিয়ার বড় ছেলে আনোয়ার পারভেজ বলেন এই রাস্তাতে যখন ইট লাগানো হচ্ছিলো তখন আমি ঠিকাদার বাচ্ছু খাঁন সাহেব কে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিলাম এগুলো দুই নাম্বার ইট কিন্তুু ঠিকাদার আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহন না করে পাশ কাটিয়ে আমাকে এরিয়ে গেছেন। এই রাস্তায় নিন্মমানের বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করে বলেন এখনতো বৃষ্টিতে ভিজে দুই নাম্বার ইট পানি খেয়ে ১ নাম্বারের রঙ ধারন করেছে।
ইটভাটা থেকে দুই নাম্বার ইট কিনে এক নাম্বার ইটের ভাউচার করানো আহামরি কোন ব্যাপার নয় বলেও অনেকের ধারনা। রাস্তা নির্মান কালীন সময়ে থানা প্রকৌশলী সাহেব রাস্তা পরিদর্শন করেছেন কিনা সে ব্যাপারে খুজ নিয়ে দেখা গেল এলাকার কোন লোকই প্রকৌশলী সাহেবকে রাস্তা পরিদর্শন করতে দেখেন নি।
এ ব্যাপারে নিকলী উপজেলার (পি আই ও) সাহেবের সাথে ০১৭২০ ২৪৩৩২২ এই নাম্বারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন উক্ত রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। এর ভিতরে রাস্তা যতবার ক্ষয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে ততোবারই ঠিকাদার নিজ খরচে মেরামত করিবেন। আমরা এখনও উনার কাজ বুঝে নেইনি।
বর্তমানে রাস্তাটির ভাঙ্গন দিনে দিনে বড় হচ্ছে কিন্তুু ঠিকাদার সাহেব কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ধীরে ধীরে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। ঠিকাদার সাহেব আদো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করবেন কিনা সে ব্যাপারে এলাকাবাসীকে কোন ধরনের আশ্বাস দেননি ঠিকাদার সাহেব।