শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
মৃত্যুর আগেই নিজের ‘চল্লিশা’, ৫ হাজার মানুষের ভোজ করালেন হোসেনপুরের রফিকুল নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, অস্ত্রসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সব তথ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে: আরপিএমপি কমিশনার নেপালের বন্যায় আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রস সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের জানাজা একসঙ্গে কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আহত

নিকলীতে সরকারি গাড়ি ভাঙ্গার মামলায় গ্রেপ্তার ১

দিলীপ কুমার সাহা
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০
  • ১১৯০ বার পড়া হয়েছে

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলাতে মালির চাকরি দেয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উৎকোচ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, উৎকোচের টাকা ফেরত চাওয়ায় অভিযোগকারীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের মিথ্যা মামলা করেছেন ওই চেয়ারম্যান। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় যুবলীগের এক নেতা সুবুজ মিয়াকে (৩২) গত সোমবার (১৭ আগষ্ট) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান রুহুল কুদ্দুস জনি। আর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। মালির চাকরি দেয়ার কথা বলে নিকলী উপজেলার খালিশার হাটি এলাকার কামরুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান রুহুল কুদ্দুস জনি। মালির চাকরি না পেয়ে গত ২৬ জুলাই বাড়ি থেকে অফিসে যাওয়ার পথে স্থানীয় অডিটরিয়ামের সামনের রাস্তায় চেয়ারম্যানের গাড়ি থামিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার দাবি জানান কামরুল।

এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই দিন বিকেলে কামরুলসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কারার সাইফুল ইসলাম ও সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপকে আসামি করে নিকলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তার সরকারি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। অপরদিকে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন কামরুল।
নিকলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহসান রুহুল কুদ্দুস জনি বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কারার সাইফুল ইসলাম এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপের উপস্থিতিতে এবং তাদের আদেশে আমার ওপর আক্রামণাত্বকভাবে আঘাত করা হয়। এ সময় সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং আমার লোকজনদের ওপর হামলা করা হয়।

 

উৎকোচ প্রধানকারী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, সালাম দেয়ার পর তিনি (চেয়ারম্যান আহসান রুহুল কুদ্দুস জনি) গাড়ি থেকে নামেন। তারপর আমি বলি, ভাই আমি তো গরিব মানুষ টাকা পাই দিয়ে দেন। পরে তিনি বলেন টাকা না দিলে কী করতে পারবি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোকে আমি এ গাড়ি ভাঙার মামলা দেব। যে মামলায় কোনোদিন বাঁচতে পারবি না। এদিকে চেয়ারম্যানের অবৈধ টাকা নেয়ার বিষয়টি ভিন্নদিকে প্রবাহিত করতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে দাবি করে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ প্রতিপক্ষের ও আওয়ামীলীগের লোকজনকে ফাঁসাতে গাড়ি ভাঙচুরের নাটক সাজানো হয়েছে।

 

এমনকি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ দাবি করেন, ঘুষের টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কামরুলের সঙ্গে তর্কাতর্কি হওয়ার পর পরই চেয়ারম্যান গাড়িসহ তার বাসায় এসে এ ঘটনা জানায়। তখন গাড়িটি অক্ষত ছিল। সিসি টিভির ফুটেজেও ওই সময় গাড়িটি অক্ষত দেখা যায়।
কিশোরগঞ্জ নিকলী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক আয়াজ বলেন, আমার বাসায় যখন চেয়ারম্যান গাড়ি নিয়ে আসছেন তখন তো গাড়ি ভাঙা দেখিনি। আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, ছেলেদের নামে নালিশ করেছেন, পরে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা শুনে আমি নিজেও আশ্চর্য হয়ে গেছি। আমার বাসা থেকে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান ইউএনও সাহেবের গাড়িটা যেখানে রাখা হয় সেখানে গিয়ে গাড়িটা রেখেছে। তার দুই/চার মিনিট পর গাড়ি আবার পরিষদের চেয়ারম্যানের চেম্বারের সামনে সেটি রেখে দোতালায় উঠেছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরে চেয়ারম্যানের কাছের লোক লিটন এবং তুষার গাড়িটা ভেঙ্গেছে। গাড়ির যে চালক আমি তার সঙ্গে কথা বলে এসব বিষয় জেনেছি।

 

নিকলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়ার আহমেদ তুলিপ বলেন, গাড়ি যদি ভাঙা হয়ে থাকে সেই জায়গায় দোকানপাট আছে, সেসব লোকজনদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন এখানে কোনো গাড়িতে হামলা বা ভাঙা হয়েছে কিনা। উপজেলা পরিষদের গাড়ির গ্যারেজে রেখে তার গাড়ির চালককে দিয়ে ভাঙানো হয়েছে।

নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীরা।
নিজেই সরকারি গাড়ি ভেঙে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে দাবি করে স্থানীয় আফজাল হোসেন এম পি (কিশোরগঞ্জ ৫ আসন) জানান, তদন্ত শেষে বিষয়টি প্রমাণিত হবে। নিকলী থানায় দায়ের হওয়া পাল্টাপাটি দু’টি মামলাই তদন্ত করছে পুলিশ।

তিনি বলেন, সরকারি গাড়ি নিজের গাড়ি, বেসরকারি চালক দিয়ে চালানো এটি একটি অপরাধ। সে সরকারি চালককে বসিয়ে রে খে তার নিজের লোক দিয়ে গাড়ি চালান, আরেকটি অপরাধ হবে যদি সে নিজে গাড়িটি ভেঙে থাকে। এটা যদি প্রমাণিত হয়, পুলিশি তদন্তে বের হয়ে আসলে এটা আইনানুগভাবে যা ব্যবস্থা নেয়ার দরকার সেটা হবে। সে বিএনপিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগকে এং আমার দলের নেতা কর্মিদের এভাবে ধ্বংস করে ফেলবে, এটা আওয়ামী লীগ ও আমরা কোনো অবস্থাতেই হতে দেব না।

নিরাপরাধ কাউকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হবে না বলে জানান নিকলী থানা পুলিশ কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের দায়েরকৃত মামলার ৭ নম্বর আসামি সুবুজ মিয়াকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিকলী থানার ওসি মো. শামছুল আলম সিদ্দিকী বলেন, অনেক তথ্য পেয়েছি। তবে সেটি তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না। তদন্তে যে দোষী হবেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর নির্দোষ হলে ছাড়া পাবেন। যেহেতু এখনো তদন্ত শেষ হয়নি সেহেতু কিছু বলা যাচ্ছে না।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com