কিশোরগঞ্জ নিকলী উপজেলা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে খাদ্যশস্য (ধান) সংগ্রহ করার লক্ষ্যে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে কৃষকদের ভাগ্য।
বুধবার (৫ মে) দুপুরে খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না সভাপতিত্বে উপজেলা হলরুমে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ভাগ্যবান কৃষকদের নির্বাচন করা হয়। যাদের কাছ থেকে সরকার ১০৮০ টাকা মণ ধরে ধান ক্রয় করা হবে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা যায়, উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানে ২৭ টাকা কেজি দরে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৯৯০ মেট্টিক টন। লক্ষ্যমাত্রার সবটুকু ধান লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত চাষিদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ৬৬৬ জন কৃষককে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত প্রতিজন কৃষকের কাছ থেকে ৩ মেট্টিক টন করে ধান ক্রয় করা হবে।
গত কয়েক বছর ধরে বাজারে ধানের দাম না থাকায় লোকসান দিয়ে আসছেন কৃষকরা। লোকসান পুরণ করার লক্ষ্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান ক্রয় করার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হচ্ছে কৃষকদের।
অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামছুদ্দিন মুন্না, নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন, ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুব আলম লেলিন, ও সি এল ডি মোঃ দুলাল মিয়া, খাদ্য পরিদর্শক মোছাঃ নাজমুন নাহার, এস এ পি পি ও মোঃ গোলাম মোস্তফা, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ অন্তর চৌধুরী, উপ খাদ্য পরিদর্শক এল ডি কারার দিদারুল মনির তোফায়েল, সাংবাদিক বৃন্দ ও কৃষক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ নিকলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে সিংপুর ইউনিয়নের ১০৭ জন কৃষক ৩২০ মেট্টিক টন, দামপাডা ইউনিয়নের ১২৭ জন কৃষক ৩৮০ মেট্রিক টন, কারপাশা ইউনিয়নের ১০০ জন কৃষক ৩০০ মেট্রিক টন, নিকলী সদর ইউনিয়নের ১২৭ জন কৃষক ৩৮০ মেট্রিক টন, জারইতলা ইউনিয়নে ৮৯ জন কৃষক ২৬৫ মেট্রন টন, গুরুই ইউনিয়নের ৭২ জন কৃষক ২১৫ মেট্রো টন, ছাতিরচর ইউনিয়নের ৪০ জন কৃষক ১৩১ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের নিকট থেকে সরকারিভাবে ক্রয় হবে।