চাষিদের কোনো ছুটি নেই, একটার পর একটা কৃষিকাজ লেগেই থাকে। আর সেই কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। আমন ধান কাটার পরে শুরু হয়েছে যায় বিভিন্ন কৃষি আবাদ। শীতের শাক-সবজি, গম, ভুট্টাসহ নানা ধরনের চাষাবাদ শেষ হতে না হতেই আবার শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের সময়। ন্যায্য দাম না পেয়েও বোরো ধান লাগানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার চাষিরা।
এদিকে সকালের শীত উপেক্ষা করে সন্ধ্যা অবধি বোরোর জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউবা জমিতে হাল চাষ দিচ্ছেন, কেউবা মই দিচ্ছে আবার কেউ কেউ চারা রোপণ কাজে ব্যস্ত। কেউ জমির আইলে কোদাল দিয়ে কাজ করছে কিংবা জৈব সার বিতরণ কাজে ব্যস্ত। কেউ সেচের জন্য ড্রেন নির্মাণ কিংবা পাম্পের বা শ্যালো মেশিনের জন্য ঘর তৈরি করছেন। আবার অনেকে তৈরি জমিতে পানি সেচ দিয়ে ভিজিয়ে রাখছেন। আনুসঙ্গিক কাজ শেষ করে কেউবা বীজতলা থেকে চারা তুলে তা রোপণ করছেন ক্ষেতে।
চারা রোপণের প্রতিটি কাজ ঠিকমতো করলেও মনে শান্তি নেই কৃষকদের। সবার মনেই রয়েছে হতাশা। ধানের ন্যায্য দাম না পেলে লোকসান গুনতে হবে। নিকলী উপজেলা সদর ইউনিয়নের বানিয়াহাটির কৃষক শুক্কুর মাহমুদ , সিংপুর ইউনিয়নের চাষি সুনামদ্দিন মাষ্টার বলেন, কিছুদিন ধরে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে আমাদের।তাই ধান চাষাবাদ করে আমরা সব সময় হতাশার মধ্যেই থাকি। আবার মাঝেমধ্যে আশায় বুকও বাঁধি, না জানি কখন ধানের দাম বেড়ে যায়।
সিংপুর ইউনিয়নের সিংপুর গ্রামের সুমন মিয়া জানান, ধানের ন্যায্য দাম পায়না, একই কথা বলেন, ফরিদ মিয়া তিনি বলেন, আমরা এবার বোরো ধান লাগানো কমিয়ে দিয়েছি। আগে যখন ধানের দাম পেতাম তখন আমরা ২০ একর থেকে ২২ একর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করতাম। এখন আমরা শুধু সারা বছরের ভাতের জন্য যে চাল প্রয়োজন সেই পরিমাণ জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করছি। সিংপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাবিল সর্দার জানান, বোরো ধান লাগাতে দিন-রাত পরিশ্রম করতে হয়। এছাড়া বোরো আবাদে খরচও বেশি হয়। বোরো ধান লাগানোর পর থেকে তিন-চার দিন পর পর সেচ দিতে হয়। তারপরও যদি ন্যায্য দাম না পাই তবে লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমাদের। তাই সরকারের কাছে আমাদের আবেদন। বোরো আবাদে যেন আমাদের ভর্তুকি দেওয়া হয়।
নিকলী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৩৩ হাজার ৭৫০ একর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে ৩৭ হাজার ৫০০ একর জমিতে চাষাবাদ হবে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ২ হাজার ৭৫০ একর ও উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ৩২ হাজার একর।
নিকলী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, উপজেলায় ১০ দিন ধরে বোরো ধান রোপণ শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনের আবহাওয়ার গড় সর্বনিম্ন ২০ এবং সর্বোচ্চ ২২ বিরাজ করছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে এবং গভীর নলকূপগুলো সচল হলে খুব শিগগিরই বোরো ধান রোপণ শেষ হবে এবং আমরা কাঙ্খাকিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবো বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।