কিশোরগঞ্জের নিকলীর উপজেলার হাওরে শীতের সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা। অনেক চাষি ইতোমধ্যে আগাম জাতের সবজি ক্ষেত থেকে উঠিয়ে বিক্রি করে আবারও ওই জমিতে সবজি চাষ শুরু করছেন। ফলে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
নিকলী সদরের কালারামের হাটি গ্রামের প্রান্তিক চাষি দুলাল মিয়া তার এক একর জমি থেকে আগাম জাতের লাল শাক, টমোটো, বেগুন, কাচাঁ মরিচ ও মুলা উঠিয়ে আবারও সেই জমিতে শীতের সবজি চাষ শুরু করেছেন। এবার তিনি ওই জমিতে বেগুন, মরিচ, টমেটো ও লালশাক আবাদ করছেন। চাষি দুলাল মিয়া জানান, মাত্র ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে আগাম জাতের লালশাক ও মুলা চাষে বিক্রি করে তিনি এবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এরপর ওই জমিতে আবারও সবজি চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি। দুলাল মিয়া আরও জানান, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টি কারণে আগাম জাতের শীতের সবজি করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
একই এলাকার চাষি আব্দুল রশিদ ২০ শতক জমিতে শীতের সবজি মুলা, বেগুন, মরিচ ও করলা চাষ করেছেন। এখন তিনি সবজি ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। চাষি আব্দুল রশিদ জানান, সবজি চাষ করে প্রতি বছর তিনি ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এবারও সবজি চাষ করেছেন। তবে বৃষ্টির জন্য এবার আগাম জাতের সবজি চাষ করতে পারেননি। লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা সবাই কিছু না কিছু সবজি চাষ করে থাকেন। এখানকার সবজি ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে যায় বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি শীতের মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার ২৫০ একরের বিপরীতে ১ হাজার ১২৫ একর জমিতে এখন পর্যন্ত কৃষকরা সবজি চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, শীতের সবজি চাষ করতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষি অফিসাররা কৃষকদের পরামর্শসহ কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকেন। লাভজনক হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েও অতিরিক্ত শীতের সবজি চাষ হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নিকলীর সবজি চিচিংঙ্গা ও করলা বিষ মুক্ত হওয়ায় এক্সপোর্ট-ইমপোটের লোকজন নিকলীতে এসে জমি থেকে ক্রয় করে সরাসরি ইউরোপে পাঠাছেন।