শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
নোটিশ :
আমাদের নিউজ সাইটে খবর প্রকাশের জন্য আপনার লিখা (তথ্য, ছবি ও ভিডিও) মেইল করুন onenewsdesk@gmail.com এই মেইলে।
সর্বশেষ খবর :
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের গোলাগুলি, অস্ত্রসহ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় ইমরান খানের ছেলেদের সাক্ষাৎকারে তোলপাড় আইনজীবীদের সবকিছু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়: আইনমন্ত্রী রংপুরে ৪ খুনের ঘটনায় সব তথ্যই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে: আরপিএমপি কমিশনার নেপালের বন্যায় আনুমানিক ৯৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রস সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ জনের জানাজা একসঙ্গে কুড়িগ্রামে গ্রেপ্তার এড়াতে বাসার ছাদ থেকে লাফিয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আহত আমি এই সংসদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত: স্পিকার

নিকলীতে হারিয়ে যেতে বসেছে করাতি পেশা, বদল করছেন পেশা

দিলীপ কুমার সাহা, নিকলি, কিশোরগঞ্জ
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ মে, ২০২২
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে
নিকলীতে হারিয়ে যেতে বসেছে করাতি পেশা, বদল করছেন পেশা

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলাতে করাতিদের গাছ কাটার সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তন ও জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা পেশা বদল করেছেন। আর যে কয়জন এখনো এই কাজে যুক্ত রয়েছেন তারা আছেন শেষ রক্ষায়।

বিভিন্ন জেলার মতো এক সময় কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার গ্রামে গ্রামে করাতি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করতেন। তারা প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম এলেই বিভিন্ন জেলা থেকে দল বেঁধে এসে বসবাস করতেন। তাদের পেশাই ছিল গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় ফেরি করে গাছ কাটার কাজ নেয়া। সে সময় গাছ কাটতে হলে করাতিদের অপেক্ষায় থাকতেন গৃহস্থালিরা। বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে লাভজনক অন্য পেশায় চলে যাওয়ায় করাতিরা আজ বিলুপ্ত প্রায়। তবুও জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে এখনো দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এ পেশাকে ধরে রেখেছেন কেউ কেউ। নব্বই দশকের আগেও করাতিদের গাছ কাটার দৃশ্য দেখতে পাড়ার ছেলেরা ভিড় করতেন। গানের সুরে তাল মিলিয়ে তারা করাতিদের কাজে হাত দিতেন।

আর করাতিরা সকাল সকাল গুড়-পান্তা খেয়ে কাজে নেমে পড়তেন কাজে। ওই সময় করাতি দলের পাঁচ সদস্য গাছ কাটায় নিয়োজিত থাকলেও অন্যজন সদস্যরা ব্যস্ত হয়ে পড়তেন রান্নার কাজে। এভাবে পুরো মৌসুম কাটিয়ে দিতেন তারা। কয়েক মাসে গ্রামের সব কয়টি গাছ কেটে চিরে তারা বাড়ি ফিরতেন।

জানা যায়, সে সময় করাতিরা মাটিতে গর্ত করে বা কাঠের কাঠামো তৈরি করে করাত চালিয়ে গাছ কাটতেন। এই ধরনের করাত চালাতে উপরে আর নিচে অন্তত চার বা ততোধিক লোকের প্রয়োজন হয়। হাতলযুক্ত করাত দিয়ে উপর-নিচ টেনে একটি গাছ থেকে বিভিন্ন সাইজের কাঠ চিরানো হয়। তৈরিকৃত বিম আর তক্তা দিয়ে ঘরের ছাউনি, নৌকা ও নানা রকম আসবাবপত্র তৈরি করা হয়। সে সময় কাঠ চিরতে আকার ও প্রকার ভেদে বর্গফুট হিসেবে মজুরি নিতেন করাতিরা।

একটি মাঝারি সাইজের গাছ কাটা ও চিরানোতে এক থেকে দুই হাজার টাকা খরচ পড়তো। আর তাতে সময় লাগতো তিন দিনেরও বেশি। বর্তমানে আধুনিকতার উৎকর্ষে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার এক সময়ের করাতি।

উপজেলার গ্রামে এখন ঢেউ লেগেছে যান্ত্রিক করাতের। নিকলীর বিভিন্ন হাট-বাজারের করাতকলে অতি কম খরচে অল্প সময়ের মধ্যে চাহিদা মাফিক কাঠ চিরানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে আসবাবপত্রের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় যান্ত্রিক করাতকলের কদর বেড়েছে।

গত (৩০ এপ্রিল) জরুইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের সামনে বিশাল আকারের একটি গাছ কাটতে দেখা যায় কালাম, নুরুল ইসলাম, হাসেম ও চাঁন মিয়া এ চারজন করাতিকে।

তারা বলেন, শেষ রক্ষায় আমরা আছি। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এ পেশা। মাঝে মধ্যে বড় গাছগুলো যখন মেশিনে তোলা কষ্টকর হয়, তখন আমরা এগুলোকে ছোট সাইজ করে দেই।

নিকলীতে কাজ করতে আসা প্রবীণ করাতি কালাম বলেন, ৫০ থেকে ৬০ বছর ধরে আমরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত। আগে আমার বাবা এ কাজ করতেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে আমি এ কাজ করে আসছি। তবে শুধু এ পেশার উপর নির্ভর করে টিকে থাকা এখন আর কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। কথা হয় করাতি নুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে বাপ দাদার সঙ্গে কাজ করতাম এখন আধুনিক করাতকল স্থাপন হওয়ায় ওই পেশা ছেড়ে দিয়েছি। বর্তমানে পুড্ডা বাজারে এক করাতকলে কাজ করি।

Tahmina Dental Care

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2026 Onenews24bd.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com