কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক এবার সবচেয়ে বেশি টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ এর আগে টাকা গুণতে এতো সময় কখনও লাগেনি। তাছাড়া ইতিমধ্যে আগের সব রেকর্ড পেছনে ফেলেছে টাকার পরিমাণ। এখনো চলছে গণনা।
আজ সন্ধ্যা ৭ টার দিকে পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, সম্পূর্ণ টাকা গুনতে আরও দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে। কারণ, এখন ছোট নোটগুলো গণনা করা হচ্ছে। গণনা শেষে বলা যাবে, মোট কত টাকা হয়েছে। তবে এবার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, সিন্দুক খুলে পাওয়া টাকা দিনভর গুনেও শেষ করা যায়নি। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রেকর্ড সোয়া পাঁচ কোটি টাকার বেশি গণনা হয়েছে। বাকি টাকা গুনতে আরও দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগবে। টাকা ছাড়াও দানসিন্দুকে মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার। চার মাসের মাথায় আজ সকাল আটটায় দানসিন্দুকগুলো খুলে ১৯ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। মাঝে রমজান ও ঈদুল ফিতর থাকায় এবার এত টাকা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানসিন্দুক খোলা কমিটির আহ্বায়ক কাজী মহুয়া মমতাজ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আজ সকাল আটটায় সিন্দুকগুলো খোলা হয়। প্রথমে টাকাগুলো সিন্দুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মেঝেতে ঢেলে গণনা শুরু করা হয়। মাদ্রাসার শতাধিক খুদে শিক্ষার্থী, ব্যাংকের অর্ধশত কর্মী, মসজিদ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মিলিয়ে দুই শতাধিক লোক টাকা গণনায় অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম, শেখ জাবের আহমেদ ও সাদিয়া আফরিন, রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শওকত উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমুখ।
এর আগে গত ৭ জানুয়ারি পাগলা মসজিদের ৮টি দানসিন্দুকে ১৬ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। সেবার দিনভর গুনে পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকাসহ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।