জমে ওঠা কোরবানির পশুর হাটে বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। তাতে হাটে ক্রেতার উপস্থিতি কম। এরপরও শেষ সময়ে কোরবানির পশু কিনতে হাটে যেকজন ক্রেতা আসছেন, বাজেটের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে তাদের এখন বিক্রেতার সঙ্গে দর কষাকষি করতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোরবানির পশু কিনে বাড়ি ফিরছেন লোকজন।
বুধবার রাজধানীর হাজারীবাগ, লালবাগ, মেরাদিয়া, কচুক্ষেতসহ অন্যান্য হাট ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে বিক্রেতা ও ক্রেতা কোনও পক্ষই ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই ক্রেতারা দ্রুত সময়ের মধ্যেই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পছন্দের গরু-ছাগল কিনেছেন।
হাটগুলোতে দেখা যায়, দিনের শুরু থেকেই তুমুল বৃষ্টির কারণে কোরবানির পশু নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। একইসঙ্গে হাটে আসা ক্রেতারাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। কোনও কোনও হাটে হাঁটুপানি জমেছে জায়গায় জায়গায়। এই পানিতেই রাখা হয়েছে গরু। ক্রেতাদের হাটে ঘুরতে হচ্ছে কাদা পেরিয়ে। বৃষ্টির পানি থেকে রক্ষা পেতে অনেক ব্যবসায়ী আবার বালুর বস্তা বিছিয়ে তার ওপর গরু রাখছেন। অনেকে আবার ত্রিপল, ভারী পলিথিন দিয়ে গরুকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
তবে এমন বৈরী পরিবেশও বাধা হচ্ছে না পশু কেনাবেচায়। সব হাটেই ভিড় করেছেন বিপুল সংখ্যক ক্রেতা। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন শেষ দিন হওয়ায় একটু কষ্ট হলেও তা মেনে নিচ্ছেন তারা। আবার কিছু ক্রেতা হই-হুল্লোড় করে উৎসবের আমেজে বৃষ্টিতে ভিজেই পশু কিনছেন।
হাটে গরুর সঙ্গে শেষ সময় ছাগলের বেচাবিক্রিও বেড়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে ভোগান্তিতে বেশি পড়েছেন ছাগল বিক্রেতারা। কারণ ছাগল বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে যাবে। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। আর উল্টো দাবি ক্রেতাদের। ক্রেতারা বলছেন, গতবারের চেয়ে অনেক বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন বিক্রেতারা।
কথা হয় মানিকগঞ্জ থেকে ছাগল নিয়ে আসা হাবিবের সঙ্গে। তিনি জানান, ২৮টা ছাগল নিয়ে এসেছি। ১৭টা বিক্রি করেছি। কেমন বাজার জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজার ভালো না। যেগুলো বিক্রি করেছি তেমন লাভ করতে পারিনি। তারপরও বিক্রি করে দিচ্ছি। কারণ এগুলো তো গাড়ি ভাড়া করে ফেরত নেওয়া যাবে না। কিছু লাভের আশায় তো ব্যবসা করি। মানিকগঞ্জ থেকে ছাগল এনে ঢাকায় বিক্রি করছি চারজন লোক। আমাদের দৈনিক মজুরি ধরলে লাভ হয়নি, উল্টো লস।
তবে উল্টো কথা বলছেন ক্রেতারা। রফিকুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, গতবারের চেয়ে এবার দাম অনেক বেশি। গত বছর যে সাইজের খাসি ১৪ হাজার টাকা দিয়ে নিয়েছি, এবার কেনা পড়ল ১৭ হাজার টাকা। তাহলে কম কই। বাজারে খাসির মাংস এক হাজার টাকা। কিন্তু এখানে যে দাম তা হিসাব করলে ১২শ টাকা কেজি দাম হয়ে যাচ্ছে।
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার রাজধানীর দুই সিটিতে বসেছে ১৭টি অস্থায়ী হাট। এর বাইরে গাবতলী ও সারুলিয়ায় দুটি স্থায়ী হাটেও প্রচুর গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।