২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় পাসের হারে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে উমেদ আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির পাসের হার ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।
তাড়াইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, উপজেলার ১৫টি সাধারণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবার মোট ১ হাজার ৭০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৫৯ জন। সামগ্রিক পাসের হার ৬১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ বছর উপজেলায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭ জন শিক্ষার্থী।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, উমেদ আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৩ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
শাহ আবুল হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭৬ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৮ জনের মধ্যে ৪৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৭২ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন।
দিগদাইর ইউনিয়ন মডেল হাই স্কুলের ৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৫ দশমিক ২২ শতাংশ। এখানেও জিপিএ-৫ নেই।
তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এ বিদ্যালয়টি উপজেলায় শীর্ষে রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
এ ছাড়া জাওয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বানাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৫ জনের মধ্যে ৪১ জন পাস করেছে। পাসের হারও ৬৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
তালজাঙ্গা রাজ চন্দ্র রায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২৯ জনের মধ্যে ৭২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন। তালজাঙ্গা ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৭ জনের মধ্যে ১৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
সহিলাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৩ জনের মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২১ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন।
ধলা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ জনের মধ্যে ৩২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। অন্যদিকে কাছিলাহাটি দামিহা রাহেলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১১ জন পাস করেছে। পাসের হার ২৮ দশমিক ২১ শতাংশ। এ বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, পাসের হারে উমেদ আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় শীর্ষে থাকলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে তাড়াইল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এরপর হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ জন, পুরুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ জন এবং কাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তাড়াইলে ২০২৬ সালের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় মোট ১০৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৬ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে হাজী গোলাম হোসেন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
অন্যদিকে সহিলাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৪ জন পাস করেছে। পাসের হার ২০ শতাংশ। ভোকেশনাল শাখায় কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
সামগ্রিক ফলাফলে তাড়াইল উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পাসের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ পাসের হার নিয়ে উমেদ আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবার উপজেলার এসএসসি ফলাফলে সাফল্যের শীর্ষে অবস্থান করছে।