জুলাই আন্দোলনের সময় রাজশাহীতে ছাত্রজনতার ওপর হামলা ও দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল মঙ্গলবার এ আদেশ দিয়েছেন।
এ মামলায় গ্রেপ্তার রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক এমপি মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পরোয়ানা জারি হওয়া অন্যরা হলেন—বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী ও আলাউদ্দিন ওরফে আলাল।
এ ছাড়া সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির ও শফিকুজ্জামান ওরফে শফিকের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৮ আগস্ট) আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।
শুনানিতে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালে তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করেন। ভিডিওতে আসামিদের অস্ত্র হাতে গুলি করার ঘটনা দেখতে পাওয়ার কথা তুলে ধরে আসামি জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন তিনি।
এরপর অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদনের পাশাপাশি পলাতক আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারির আরজি করেন।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় এবং পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়।
এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। একইসময় শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আনজুম সাকিব। এ ছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে আহত হন।
শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগে বর্ণনা করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।