দিলীপ কুমার সাহা:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে সাতটি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন দুইজন। লোকবল সংকট থাকায় ওই কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে আসা লোকজন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে , এই কার্যালয়ে একজন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা , দুইজন অডিটর , দুইজন জুনিয়র অডিটর , একজন মুদ্রাক্ষরিত ও একজন এমএল এসএস পদ রয়েছে। গত ২০১৫ সালের জুন থেকে আগষ্ট মাসের মধ্যে উপজেলা , একজন অডিটর , দুইজন জুনিয়র অডিটর , একজন মুদ্রাক্ষরিত ও একজন এমএলএসএস বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে গত চার বছর ধরে পদ গুলো শূন্য রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আহমেদ খাঁন এবং অফিসের থাকা একজন অডিটর মোঃ আবু তাহের অফিসটি সামাল দিচ্ছে।
ওই কার্যালয়ে লোকবল কম থাকায় বিভিন্ন কাজে আসা লোকজনকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী জানান , ওই কার্যালয়ে পেনশন , জিপি ফা- , মাসিক বিলসহ অন্যান্য বিল সংক্রান্ত কাজ সময়মতো করা যায় না। বিভিন্ন সময় কাজ নিয়ে আসলে বলে লোকবল সংকট আজ নয় , আগামীকাল আসেন তবে আপনার কাজ করা যাবে। এভাবে নানা অজুহাত দেখিয়ে চলছে অফিসটি । এতে করে আমরা ভোগান্তির শিকার হলেও কিছু বলতে পারছি না। গত সোমবার (৬ মে) বেলা ১১ টায় সরজমিনে গিয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আহমেদ খাঁনকে অফিসে পাওয়া যায়নি। অফিসে থাকা অডিটর মোঃ আবু তাহের বলেন স্যার মনে হয় গাড়িতে আছেন। কিছুক্ষণের মেেধ্য এসে পড়বেন। জারুইতলা ইউনিয়ন থেকে আসা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মহিলা বলেন, আমি ১০ দিন ধরে স্বামীর পেনশনের টাকার চেক নেওয়ার জন্য ঘুরছি। কিন্ত অফিসে যারা আছেন তারা খালি লোকবল সংকট দেখিয়ে ঘুরাছেন। আমার নামটা দয়া করে আপনাদের পত্রিকায় দিবেন না থা হলে আরো বেশি ঘুরতে হবে।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার জাহাঙ্গীর আহমেদ খাঁন সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, লোকবল কম দুইজনে কীভাবে একটি অফিস সামাল দিবো।এটা আপনাদেরও বুঝার উচিত। নিকলী উপজেলায় ২২০ জন পেনশন ভুগী রয়েছে। তারা এমন অভিযোগ করতে পারেন। বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। তারা বলেছেন কিছু দিনের মধ্যে শূন্য পদে লোক দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। আমরা এ আশায় আছি।